প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের বাড়িতে নিত্যদিনের সাংসারিক কাজে ব্যবহার হতো মাটির তৈরিপণ্য বা মৃৎশিল্প। আমাদের পূর্বপুরুষরা মাটির থালাবাসন, হাঁড়িপাতিল, ঘটিবাটি, দইয়ের পাত্র, বদনাসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র ব্যবহার করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে সে মৃৎশিল্প হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। মৃৎশিল্প বলতে বোঝায় বাংলার কুমাররা মাটি দিয়ে হাতের নিপুণ স্পর্শে কারুকাজের মাধ্যমে যেসব পণ্য তৈরি করেন। প্রযুক্তির অগগ্রতি আর বিজ্ঞানের জয়ের ফসল হিসেবে কমদামে অধিক টেকসই অ্যালুমনিয়াম, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের জিনিসপত্রের দাপটে মৃৎশিল্পের চাহিদা ব্যাপক হারে কমে গেছে।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মৃৎশিল্পের ২০০ বছরের ইতিহাস। একসময় এখানকার কুমারদের হাতে তৈরি মাটির জিনিসপত্র স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারেও বিক্রি হতো। রান্নাঘরে দেখা যেত মাটির তৈরি হাড়ি, কড়াই, পিঠার খাঁজ, মুড়ি ভাজা জাঝর, কলস, বদনা, হরা, ফুলের টব। সেই সব জিনিসপত্র এখন খুব কমই চোখে পড়ে।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলায় কুমার পরিবারের সংখ্যা এখন ৭০টি। এসব পরিবারের সদস্যরা এখনো মাটির তৈরি জিনিসপত্র বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালান। তবে প্লাস্টিকের জিনিস পত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কদর কমেছে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের। তাই বেকার হয়ে পড়েছে মৃৎশিল্পের কারিগররা। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কুমারেরা তাদের বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।
উপজেলার ঝাপড়া রামনাথ গ্রামের গোবিন্দ পাল বলেন, এ পেশায় এখন আর লাভ নেই। অন্য কোনো কাজ জানি না, তাই বাপ-দাদার পেশাকে কোনো রকমে আঁকড়ে ধরে আছি। আমরা ধার-দেনা করে কাজ করি।
উপজেলা কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা শেখ রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, প্লাস্টিক বা মেলামাইনের পাত্রে কিছু গরম খাবার রাখা হলে সেখানে এক ধরনের ক্যান্সারের উপাদান সৃষ্টি হয়। প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ব্যবহারে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকি থাকে এবং বাকপ্রতিবন্ধিতাও দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা যদি মাটির জিনিসপত্র ব্যবহার করি, সেটার মধ্যে কোনো ভয় নাই। হাজার বছর ধরে এসব পণ্য কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। আমাদের সংস্কৃতির সাথে। তাই এই শিল্পকে বাঁচাতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।





