দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে রড, সিমেন্ট, বিটুমিন, ইটসহ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর দাম। গত তিন দিনে চার দফায় বেড়েছে রডের দাম। সিমেন্টের দাম বাড়ছে প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জিওব্যাগ, জিও শিট, শিট পাইল, ডিজেলসহ অন্যান্য সামগ্রীর দাম। যেগুলো নির্মাণের অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস। এ পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন বাড়ি নির্মাণকারী, আবাসন ব্যবসায়ী ও সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ঠিকাদারের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, রড, সিমেন্ট, পাথর, বালু, বিটুমিনসহ সব রকম নির্মাণসামগ্রীর মূল্য হঠাৎ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতি টন রডের বর্তমান বাজারমূল্য ৯৮ হাজার টাকা। আর বিটুমিন প্রতি ড্রাম ১০ হাজার টাকা। অথচ এক মাস আগেও প্রতি টন রডের দাম ছিল ৫৭ থেকে ৬০ হাজার টাকা আর প্রতি ড্রাম বিটুমিনের দাম ছিল ছয় হাজার টাকা। গত দেড় মাসের ব্যবধানে প্রতি বস্তা সিমেন্টে ১০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুই মাস আগে এক বর্গফুট লাল বালুর দাম ছিল ৩০ টাকা বর্তমানে এর দাম ৬০ টাকা।
কিশোরগঞ্জের নির্মাণসামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স নির্মাণের স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলাম যাকির বলেন, গত তিন দিনের মধ্যেই চার দফা দাম বেড়েছে শুধু রডের। বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ঊর্ধ্বগতি তো আছেই। এর মধ্যে রোববার নতুন করে প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে ৫০০ টাকা। জাহাজ ভাড়া, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, ফুয়েল খরচ বৃদ্ধি ইত্যাদি অজুহাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। যাকির বলেছেন, তিন দিনের মধ্যে চার দফা রডের দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি হতে পারে না। এতে জেলায় জেলায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি জানান।
নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং সরকারি মূল্যতালিকা পরিবর্তনসহ ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে কিশোরগঞ্জ জেলার সব সরকারি বিভাগ/ দফতরের সর্বস্তরের ঠিকাদারবৃন্দের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ঠিকাদাররা।

মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয় কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার মোস্তফা গোলাম রব্বানী, মেসার্স ইসলাম কনস্ট্রাকশনের মো: এহসানুল ইসলাম, ঠিকাদার ইকবাল আহমদ চৌধুরী মো: মোফাজ্জল হোসেন, শহীদুল হক ডাবলু প্রমুখ।