আন্দোলন সংগ্রামে সফলতার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ঢাকা মহানগরে সংগঠন জোরদার করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ঢাকায় দল শক্তিশালী করতে নানামুখী কৌশল অবলম্বন করে আসছে। বিশেষত ঢাকা মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্তকরণ, দক্ষ ও সংগঠকদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া এবং অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে বিকশিত করা। সেই লক্ষ্যেই গত বছরের ২ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এরপর সকল থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সব ওয়ার্ডে কমিটি ঘোষণা করেছে। তবে দক্ষিণের ওয়ার্ড কমিটি গঠন হয়নি। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি গঠনে যোগ্যদেরকে মূল্যায়ণের দাবি সংশ্লিষ্টদের। পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতা জানান, মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাদের পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি গঠনে কাজ করছেন। কিন্তু যারা রাজনৈতিক কারণে অসংখ্য মামলার আসামি এবং দলে সক্রিয় তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা যোগ্যদের দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের দাবি জানান।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণের ২৪টি সাংগঠনিক থানায় ৭৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৮টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়। অন্য দিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৬টি থানায় ৭১টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড রয়েছে। ইতোমধ্যে সব ওয়ার্ডে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এখন বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগীদেরকে মূল্যায়নের দাবি সংশ্লিষ্টদের। জানা যায়, ২৩নং ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত কমিটির শীর্ষপদে আমিনুল ইসলাম আমিন ও শ্যামলের নাম রাখা হয়েছে। নিজেদেরকে ত্যাগী দাবি করে এই ওয়ার্ডের কয়েকজন বলেন, যাকে তাকে দিয়ে কমিটি গঠন করলে বিশৃঙ্খলা হবে। সুতরাং অবশ্যই যোগ্যদের দিয়ে কমিটি গঠন করা জরুরি। এই ওয়ার্ডে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সাইদ হাসান সোহেল। যিনি ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলার আসামি। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুক্তি পরিষদের সভাপতি। এ ছাড়াও মো: রাসেল ও মো: সাজ্জু এই ওয়ার্ডের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। তারা বলেন, যারা মাদকসেবী, সরকারের সাথে আঁতাত করে চলে তাদেরকে যেন পদ দেয়া না হয়। ২৪নং ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত কমিটিতে শীর্ষপদে মো: ফরিদ রানা এবং মো: শহিদুলের নাম রাখা হয়েছে। ফরিদ রানার বয়স ষাটোর্ধ্ব। শীর্ষ পদপ্রত্যাশী অন্যরা হলেন- ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মো: ইসমাঈল হোসেন, কিয়াম উদ্দিন কিয়াম, দুলাল, শাহিনসহ বেশ কয়েকজন। যাদের অনেকেই একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি। এই ওয়ার্ডের কয়েকজন নেতা বলেন, যারা ত্যাগী তাদেরকে বাদ দিয়ে কমিটি হলে কেউ মানবে না। সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জানা গেছে, ২৫নং ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত কমিটির শীর্ষপদে হাফেজ মো: এনায়েত উল্লাহ খোকনের নাম রাখা হয়েছে। তবে তিনি ২৩নং ওয়ার্ডের ভোটার। ফলে এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, যে লোক অন্য ওয়ার্ডের ভোটার তাকে ২৫নং ওয়ার্ডে সভাপতি বানালে তিনি নেতৃত্ব দেবেন কিভাবে? এই ওয়ার্ডে শীর্ষপদ প্রত্যাশা করেন- তানভীর আহমেদ সেন্টু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: বাবু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তাজ মো: সাজিদ, মোর্শেদ ও মাইজুদ্দিন প্রমুখ। ২৬নং ওয়ার্ডের কমিটিতে শীর্ষপদে সাবেক ছাত্রনেতা মো: বদিউল আলম সুইটের নাম রাখা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং ক্ষমতাসীনদের সাথে যোগসাজোশের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন নেতা জানান, সুইট বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে ২০১৫ ও ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন করেছেন। অথচ এই ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মীর আশরাফ আলী আজম। এই ওয়ার্ডে বিএনপির শীর্ষ পদপ্রত্যাশী অন্যরা হলেন- মো: মোকসেদুল রহমান জনি, মাহবুব হোসেন ও ফিরোজ। জানা গেছে, লালবাগ ও চকবাজার থানার ওয়ার্ড কমিটি গঠনের দায়িত্বে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক টিম-৫ এর নেতা তানভীর আহমেদ রবিন, মনির হোসেন (চেয়ারম্যান) ও হাজী শহিদুল ইসলাম বাবুল। তানভীর আহমেদ রবিন নয়া দিগন্তকে বলেন, কোনো পক্ষ দেখে নয়, যারা সক্রিয় এবং মাঠে পেয়েছি তাদের সমন্বয়ে খসড়া কমিটি আমরা কেন্দ্রে জমা দিয়েছি। তবে কারো বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকলেও যদি দল ব্যবস্থা না নেয় বরং তিনি সক্রিয় থাকেন তাদেরকে তো বাদ দেয়া যায় না। দীর্ঘদিন পর ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হচ্ছে তাই কিছু সমস্যা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মো: আমিনুল হক বলেন, তার সব ক’টি ওয়ার্ডে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন শেষ। এখন ওয়ার্ডের অধীনে বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ চলছে। ১০ রমজানের মধ্যেই সেসব শেষ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।