প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় করিমগঞ্জে বিদ্যালয়ে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে মারধর করেছে কয়েকজন বখাটে। এ সময় ওই ছাত্রীকে টানা-হেঁচড়া করে তার মোবাইল ফোন, স্কুলব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বখাটেরা। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্কুলে ছুটে যান। গতকাল বুধবার করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সংবাদ পেয়ে গুনধর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ছায়েম ভূঞা রাসেল ও সাবেক চেয়ারম্যান নূরু শিকদার বিদ্যালয়ে গিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেন।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর অভিযোগ, উপজেলার জয়কা গ্রামের প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের বখাটে ছেলে মোহাম্মদ সাগর প্রেম নিবেদনসহ প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে আসার পথেও উত্ত্যক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে সাগর তার ৪-৫ বন্ধুকে সাথে নিয়ে স্কুলে ঢুকে ওই ছাত্রীকে কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারতে থাকে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ ইকবাল প্রশাসনিক কাজে উপজেলায় অবস্থান করছিলেন। আমি ছিলাম শিক্ষকরুমে। বিদ্যালয়ে বখাটেদের হামলার খবর শুনে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এক বখাটেকে আটক রেখেছে।
গুনধর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছায়েম ভূঞা রাসেল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে যান উল্লেখ করে জানান, ঘটনার বিষয়ে স্কুলের ভেতরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক হয়। এ সময় দুই পরিবারের লোকজন ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করলে বিষয়টি সেখানেই মীমাংসা করে দেয়া হয়।
কিশোরগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি ও সনাকের নারী বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মায়া ভৌমিক বলেন, ঘটনাটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অজামিনযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি এভাবে মীমাংসা করা আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।