ময়মনসিংহের ভালুকায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা ((কাবিটা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন কোনো কোনো প্রকল্পের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার কোনো কোনো প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) যোগসাজশে বরাদ্দকৃত বেশির ভাগ টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পর্যায় (উন্নয়ন) কাবিখার ৫৩টি প্রকল্পের আওতায় তিন মেট্রিক টন করে প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন চাল এবং আরো ৩২টি প্রকল্পের আওতায় ১৫৯.৯৪ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ছাড়া টিআরের ৬৫টি প্রকল্পের আওতায় ৪৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৬ টাকা ও কাবিটার ২৯টি প্রকল্পের আওতায় ৭৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯২৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী মহেন্দ্র বর্মণের বাড়ি থেকে আব্দুল ফকিরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি ফ্লাট সলিং করার জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে ওই রাস্তায় ইটের কাজ করা তো দূরের কথা, অল্প কিছু পরিমাণ মাটি ফেলে সমুদয় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। প্রকল্প সভাপতি ইউনিয়নের নারী সদস্য শেফালী রানী ওই রাস্তায় ২৫ হাজার টাকার মাটির কাজ করেছেন জানিয়ে বলেন, এসব বিষয় ফোনে নয়, সাক্ষাতে বলব।
উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর পাকা রাস্তা থেকে রুস্তম তালুকদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি এইচবিবি করার জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ৫০ থেকে ৬০ ফুট রাস্তা নামমাত্র ফ্লাট সলিং করা হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ইউসুফ জানান, এ বিষয়ে চেয়ারম্যানই ভালো বলতে পারবেন। তেমনি ভায়া মল্লিকবাড়ি পাকা রাস্তা থেকে মজিবর চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি ফ্লাট সলিং করার জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও কিছু ইট বিছিয়ে দিয়েই নামমাত্র কাজ শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভালুকা সদর ইউনিয়নের বাঁশিল দয়াল মার্কেট থেকে করিমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তিন টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও এ রাস্তায় কোনো কাজই করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত এক কোদাল মাটির কাজও করা হয়নি এ রাস্তায়। এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মেম্বার সোহেল জানান, টিআরের বরাদ্দগুলো তো খাওয়ার জন্যই। একই ইউনিয়নের মেহেরাবাড়ি মেইনরোড থেকে আমছুর মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ও আজিজ পুলিশের বাড়ি থেকে শফিকুল শিকদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দু’টিতে সংস্কারের জন্য তিন মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও নামমাত্র কাজ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তারা আরো জানান, তদন্ত হলে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির আসল চিত্র বেরিয়ে আসবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ জানান, খোঁজ নিয়ে যেসব প্রকল্পে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেগুলোর অবশিষ্ট ডিও বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।