গাজীপুর মহানগরে বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান শেষ না হতেই অসাধু ঠিকাদাররা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিতাস গ্যাস অফিসকে ম্যানেজ করে দেদার পুনঃসংযোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত গাজীপুর মহানগরের গাছা অঞ্চলে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শেষ না হতেই তিতাস গ্যাস কোম্পানির কিছু অসাধু ঠিকাদার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রাত-দিন এসব অবৈধ সংযোগ ফের চালু করছেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর তিতাস গ্যাস অফিসের সিনিয়র সুপারভাইজার ও সিবিএ নেতা খান মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় কয়েকজন ঠিকাদার দিন-রাত অবৈধ সংযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক বিচ্ছিন্ন করা অবৈধ সংযোগগুলো তারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে আবার চালু করে থাকেন। অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট সংযোগধারীকে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে পরবর্তীতে অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।
নাম গোপন রাখার শর্তে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তারগাছ তালেব মার্কেট সংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনের মালিক জানান, একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে তিনি বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিয়েছিলেন। ওই ঠিকাদার পরে কাগজপত্র ঠিক করে দিবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংযোগ দেয়ার পর ওই ঠিকাদার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। সম্প্রতি তিতাসের ভ্রাম্যমাণ আদালত তার অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করতে মাটি খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করলে গাজীপুর তিতাস গ্যাস অফিসের সিনিয়র সুপারভাইজার খান মিজানুর রহমান তাকে রফাদফার প্রস্তাব দেন। পরে ৩০ হাজার টাকার রফাদফায় তার সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সেখান থেকে নিয়ে যান। এলাকার অন্যান্য অবৈধ সংযোগও মিজানুর রহমান বিশেষ রফাদফায় আবার সংযোগ দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। অবৈধ সংযোগধারীরা আরো জানান, মিজানুর রহমানের পছন্দের ঠিকাদার কাউসার, আলাউদ্দিন ও আলামিনে মাধ্যমে এসব সংযোগ দেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর তিতাস গ্যাস অফিসের এক কর্মচারী জানান, মিজানুর রহমান তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের মাধ্যমে প্রতিদিনই কোনো না কোনো অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দিন শেষে তিতাস গ্যাস অফিসের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে এ টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেন। তিতাস গ্যাস অফিসের সিবিএ নেতা খান মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন অফিসাররাও কোনো ব্যবস্থা নিতে ভয় পান।
এ ছাড়া স্থানীয় সাইনবোর্ড এলাকার শরিফ, কাজল, শামীম, গাছা রোডের ফকির মার্কেট এলাকার জয়নাল ও বোর্ডবাজার এলাকার ফয়েস মুন্সি তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে খান মিজানুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
গাজীপুর আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস অফিসের ডিজিএম শাহজাদা ফরাজি বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর কেউ পুনঃসংযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো লোক জড়িত থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিবিএ নেতার সিন্ডিকেট
গাজীপুরে তিতাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হতেই দেদার পুনঃসংযোগ
গাজীপুর মহানগরে বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান শেষ না হতেই অসাধু ঠিকাদাররা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিতাস গ্যাস অফিসকে ম্যানেজ করে...





