দৈনিক নয়া দিগন্তের পেকুয়া সংবাদদাতা ও পেকুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছফয়াওনুল করিমের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ঘটনার তিন দিন পর তাকেই প্রধান আসামি করে মামলা করেছে হামলাকারীরা।

সোমবার রাতে পেকুয়া থানায় সাংবাদিকের করা মামলার স্বাক্ষী তারেকুল ইসলামসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলাটি করেন হামলাকারীর এক স্বজন।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ মামলার ঘটনায় এলাকার সাংবাদিকেরা ও সচেতন মহল নিন্দা জানিয়েছেন এবং এর পেছনে কারা কারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান তারা।

জানা যায়, গত শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে প্রেসক্লাবের উদ্দেশে আসছিলেন। পথিমধ্যে ডবল ব্রিজ এলাকায় এলে পেকুয়া হাসপাতালে মাস্টাররোলে কর্মরত নৈশ প্রহরী মিফতাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে এক দল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায় । এতে ছফওয়ানুল করিম ও তার সহোদর ব্যাংক কর্মকর্তা জিল্লুল করিম আহত হন। তখন তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দিনই আসামি কামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশ প্রহরী মিফতাহ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি ও ভর্তি রোগীদের মালামাল চুরি করেন। এছাড়াও আরো একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) হাসপাতালে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে যান ছফওয়ানুল করিম। এ সময়ই তার ওপর চড়াও হন মিফতাহ উদ্দিন। এ ঘটনার জের ধরে সংবাদ প্রকাশ করলে ছফওয়ানুলের হাত কেটে ফেলার হুমকিও দেন তিনি । এর পরের দিন
শুক্রবার সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম বাড়ি থেকে প্রেসক্লাবের উদ্দেশে বের হলে মিফতাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ছেলে রাসেল মিস্ত্রি ও ছোটনসহ বেশ কয়েকজন তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

থানায় দায়েরকৃত পাল্টা মামলার বিষয়ে সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম জানান, ঘটনার দিন সাড়ে ৩টায় আমি আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই সহকর্মী সাংবাদিক এবং পুলিশের সাথে কখনো হাসপাতালে, কখনো থানায় মামলা দায়ের ও চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত
ছিলাম । এ সময়ে আমার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলার একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘটনা দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলাটি একটি সাজানো ও মিথ্যা মামলা বলে তিনি দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, থানায় যে কেউ অভিযোগ দিলে তা আমলে নেয়া পুলিশের দায়িত্ব। একই ঘটনায় দুটি মামলা হতেই পারে তবে তদন্তপূর্বক অবশ্যই সত্য ঘটনাকে আমরা তুলে এনে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধেই কেবল আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। কোনো অবস্থাতেই নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হবে না।