সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়ন সাহেবগঞ্জ দাদপুর জিআর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পড়ালেখার মান ভালো থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সরকারের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। ১৯৯২ সালে এই বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে এখন পর্যন্ত এলাকার গরিব অসহায় ও দরিদ্র সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে পাঠদান চালু রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এবং ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। প্রতি বছরেই কৃতিত্বের সাথে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা প্রায় শতভাগ পাস করে আসছে। কিন্তু অবকাঠামোগত নানা ধরনের সঙ্কটে ভুগছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। কম্পিউটার ল্যাব, ক্লাসরুম, শিক্ষকদের অফিস কক্ষ, ল্যাবরেটরি, গ্রান্থাগার, বিজ্ঞানাগার, খেলার মাঠ, শহীদ মিনারসহ কোনোটি এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই। তা ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুমসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা অপ্রতুল।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অনেক দিনের পুরনো জরাজীর্ণ কয়েকটি টিনশেডের ঘর রয়েছে। ঘরগুলো একটু হালকা ঝড়ো বাতাসেই দুলতে থাকে। টিনের সাথে লাগানো কাঠের বাতাগুলো খুলে খুলে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুনজুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন ভবন বানিয়ে দিচ্ছে। আমরা একটি ভবন পেলে প্রতিষ্ঠানটির লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি পেত এবং মানসম্মত পাঠদান সম্ভব হতো।
দাদপুর জিআর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দিনব্যাপী পাঠদান করে এলেও উপযুক্ত ভবন ও আসবাপত্র না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল আলম বলেন, সরকারিভাবে অনেক উচ্চবিদ্যালয়ে বহুতল অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ চলছে। পর্যায়ক্রমে এই বিদ্যালয়টি যাতে সুন্দর ভবন পায়, সে লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করব।