ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনকে এমপি আনার শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এমপি আনার শিক্ষক লাঞ্ছিতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার সময় কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে তারাও ক্যাম্পাসে যাননি বলে অভিযোগ করেছেন ছুটিতে থাকা অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাউশি মহাপরিচালক, রেঞ্জ ডিআইজি খুলনা, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লাঞ্ছিত গণিত শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, তিনি তার ডিপার্টমেন্টে জরুরি কাজ করছিলেন। এ সময় এমপি কিছু লোক নিয়ে তার ডিপার্টমেন্টে এসে ‘তুই শিবির করিস’ বলে চড়-থাপ্পড় মারেন। এমপির চড়ে তার কানে সমস্যা দেখা দেয়ায় তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, কলেজ থেকে সরকারি খাতা চুরির বিষয় নিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশক্রমে একটি চুরির মামলা করা হয় আদালতে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। এ মামলার সাক্ষী গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন। এ কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ অনেকেই।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, কলেজের বিষয়টি তাকে কেউ জানাননি। অধ্যক্ষ তাকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেনো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
এ দিকে তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে এমপি আনারের বেশ খ্যাতি আছে। তিনি নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করার মতো অনেক প্রশংসামূলক কাজ করেছেন। এমনকি মোটরসাইকেলে তিনি মৃত মানুষের নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন; কিন্তু শিক্ষকদের সাথে এ ঘটনা নিয়ে জেলাজুড়ে তিনি সমালোচিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, চড়-থাপ্পড়ের মতো কোনো ঘটনা সে দিন ঘটেনি। তিনি সামান্য বকাঝকা করেছেন মাত্র।