শরীয়তপুরের বিনোদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ১২টি বসতবাড়ি ও ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদার ও শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য কোব্বাত মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
পালং মডেল থানা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ইউপি নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের সমর্থক শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদ মাদবরকে পরাজিত করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কোব্বাত মাদবর সদস্য নির্বাচিত হন। সেই থেকেই পরাজিত সদস্য প্রার্থী ও বিজয়ী সদস্য এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
সোমবার রাতে পরাজিত প্রার্থী এমদাদ মাদবরের সমর্থকদের সাথে বিজয়ী সদস্যের সমর্থকদের কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে চেয়ারম্যান হামিদ সাকিদারের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ কোব্বাত মাদবরের সমর্থক হাতেম ঢালী, স্বপন, লালমিয়া ও কাশেমের দোকান ও বাড়িতে ভাংচুর করে। পরে কোব্বাত মাদবরের সমর্থকরা লাল মিয়া বেপারী, রশিদ বেপারী, জলিল বেপারী, মোকছেদ বেপারী, হায়দার সরদার, হেদায়েত সরদার ও ইউনুছ সরদারদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভাংচুর করে।
ঘটনার সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের শরীয়তপুর সদর ও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউপি সদস্য কোব্বাত মাদবর বলেন, ‘এমদাদ মাদবর, লিটন মুন্সী, সফি বেপারী ও ফারুক মাদবর তুলাসার ও চিকন্দী ইউনিয়ন থেকে লোকজন নিয়ে এসে আমার ও আমার সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুট করেছে। জলিল ও মোকদেরসহ ৬/৭ জন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
বিনোদপুর ইউপির সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদ মাদবর বলেন, ‘আমি বা আমার সমর্থকরা কারোর বাড়িঘর বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট করেনি। কোব্বাত মাদবর ও তার সমর্থকরা আমার সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর করেছে। বাধা দেয়ায় আমাকেসহ আমার অনেক সমর্থককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদার বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এমদাদ মাদবর ও কোব্বাত মাদবর নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে এলাকায় মারামারি করেছে। সেখানে আমার কোনো নেতৃত্ব বা সম্পৃক্ততা নাই।’
পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আক্তার হোসেন বলেন, ‘আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ও আমি ঘটনাস্থলে আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





