নাটোর শহরের শেফা ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে দুলালী বেগম (২৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই চিকিৎসক ও হাসপাতালের মালিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নাটোর সদরের দত্তপাড়ার রাইজুল ইসলামের ছেলে শাওনের স্ত্রী দুলালী বেগম অসুস্থ হলে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তাকে শহরের শেফা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক আলআমিন ও চিকিৎসক সম্রাট তার জরায়ুর অপারেশন শুরু করেন। অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় রোগীকে রাজশাহী নেয়ার কথা বলেন তারা। রাত ১০টার দিকে রোগীকে রাজশাহী নেয়ার জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। একটু পরই শহরের বাইপাস রোডের একটি পেট্রল পাম্পে নিয়ে অন্য অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে তুলে দিয়ে সাথে থাকা শেফা ক্লিনিকের পরিচালক সুজন মণ্ডল পালিয়ে যান। পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুলালী বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের দেবর সোহান বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দুলালী বেগমকে রাজশাহী নেয়ার পরপরই শেফা ক্লিনিকের পরিচালক তোজাম্মেল হোসেন জিলানী, সুজন মণ্ডল, গ্রাম্য চিকিৎসক রয়েল, শেফা ক্লিনিকের চিকিৎসক আল আমিন ও সম্রাটসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। গৃহবধূ দুলালী মারা যাওয়ায় এখন হত্যা মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সোহান।
নাটোর থানার ওসি নাছিম আহমেদ বলেছেন, লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।