কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র এবং কাউন্সিলররা শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার সাড়ে ১১টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ আয়োজন সম্পন্ন করেন। এ সময় বিজয়ী মেয়র আরফানুল হক রিফাতকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শপথ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম নির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান।
২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মোট ৩৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে জামায়াত অনুসারী দুই কাউন্সিলর শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে কুসিক মেয়র আরফানুল হক রিফাতসহ কাউন্সিলরগণ স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলামসহ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। গত ২৩ জুন বাংলাদেশ গেজেটে মেয়রসহ নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের নামের তালিকা প্রকাশিত হয়।
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জামায়াত সমর্থিতদুই কাউন্সিলরের শপথ গ্রহণ : শপথ গ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নবনির্বাচিত জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া ও অ্যাডভোকেট একরাম হোসেন বাবু। এ সংক্রান্তে চিঠি মঙ্গলবার সকালে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিউলি রহমান তিন্নী। তিনি বলেন, সরকারি বিধি অনুসারে শুধু শপথ গ্রহণের সময়ের জন্য দুই কাউন্সিলর প্যারোলে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। শপথ শেষে তারা আবারো কারাগারে ফিরে আসবেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কুসিকের নির্বাচনের পর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গত ২১ জুন আদালতে হাজির হয়ে জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় কারাগারে যান কুসিকের ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া ও ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট একরাম হোসেন বাবু। এ ছাড়াও বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় জামিন নিতে গিয়ে গত ২৯ জুন কারাগারে যান ১৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুল। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আসাদুর রহমান বলেন, কারাগারে থাকা তিন কাউন্সিলরের মধ্যে গত রোববার বিকালে জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন কাউন্সিলর বাবুল। অপর দুজনের প্যারোলে মুক্তির চিঠি এসেছে, তাই প্র্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।