প্রথম সন্তান জন্মের তিন মাস পর হঠাৎ দেখা দেয় অসুস্থতা। নানা চিকিৎসায় ভালো না হওয়ায় দিনমজুর বাবা অনেক কষ্টে একমাত্র ছেলেকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান রাজশাহী। নানা রকম পরীক্ষা শেষে অনেক টাকা খরচের পর জানা গেল ওই শিশুর হার্ট ছিদ্র আর রক্তেও রয়েছে সমস্যা। দীর্ঘ চিকিৎসায়ও ভালো হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। অবশেষে ডাক্তার পরামর্শ দিলেন ওই শিশুকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিতে হবে। এজন্য খরচ হবে অন্তত তিন লাখ টাকা। কিন্তু গরিব বাবা-মায়ের নেই সেই টাকা জোগাড়ের কোনো উপায়। তার পরেও মন তো মানে না। চোখের সামনে একমাত্র ছেলেকে তো আর মরতে দিতে পারেন না। অবুঝ শিশুর মুখের দিকে মায়াভরা চোখে তাকিয়ে গড়িয়ে পড়ে বাবা-মার চোখের পানি। অবশেষে বাবা-মা সিদ্ধান্ত নেন, আত্মীয়দের কাছে ধার-দেনা করে যোগাড় করবেন টাকা। চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ্য করে হাসি ফোটাবেন একমাত্র ছেলের মুখে। শুরু হয় টাকা ধার করা। তিন লাখের মধ্যে ইতোমধ্যে যোগাড় হয় আড়াই লাখ টাকা। এক ভগ্নিপতি কয়েক দিনের মধ্যে বাকি ৫০ হাজার টাকা ধার দিলেই ওই শিশুকে নিয়ে যাওয়া হবে চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে। শুরু হয় সকল প্রস্তুতি। কিন্তু হঠাৎ সর্বগ্রাসী এক আগুন গ্রাস করে নিলো ওই জমানো টাকা। দিশেহারা পাগলপ্রায় বাবা-মায়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শোকে দিশেহারা দিনমজুর বাবা এখন শয্যাশায়ী।
ঘটনাটি ঘটেছে নলডাঙ্গা উপজেলার, ঠাকুরলক্ষীকোল গ্রামে। বুধবার বিকেলে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভুক্তভোগী দিনমজুরের নাম রিপন আলী। তার অসুস্থ্ ছেলের নাম রিভান আলী। বর্তমানে তার বয়স নয় মাস। শিশুটি রাজশাহীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের লিডার এমদাদুল হক আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রান্না করার সময় ওই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
জমানো টাকাসহ আগুনে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কলিম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই শিশুর চিকিৎসা কিভাবে করাবেন তাই এখন দুশ্চিন্তার বিষয়। এমন সঙ্কটকালে মানবিক দিক বিবেচনা করে সমাজ ও দেশের উদার দানশীলসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।





