দরিদ্র দিনমজুর বাবা রিপন আলীর একমাত্র শিশু সন্তান রিভান। জন্মের তিন মাসের মাথায় রাজশাহী পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধরা পড়ে তার হার্টে ছিদ্র আছে এবং রক্তেও নানা সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে তাকে দ্রুত চিকিৎসা করাতে না পারলে রিভানকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এ জন্য কমপক্ষে তিন লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু কোথায় পাবেন দিনমজুর বাবা এত টাকা!
অবশেষে দরিদ্র বাবা তার প্রিয় সন্তানের চিকিৎসার জন্য আত্মীয়স্বজনদের কাছে হাত পাতলেন। অনেক কষ্টে ধারদেনা করে আড়াই লাখ টাকা জোগাড় করেছিলেন। বাকি ৫০ হাজার টাকা তার এক ভগ্নিপতি দিবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়িতে আগুন লেগে অন্যান্য মালামালের সাথে পুড়ে গেলো এত কষ্টে জোগাড় করা টাকাগুলো।
ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ঠাকুরলক্ষ্মীকোল গ্রামে। গত বুধবার বিকেলে রিপনের বাড়িতে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নাটোর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, রান্নাঘর থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে দ্রুত এসে স্থানীয়দের সহায়তায় দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে পুড়ে যায় সব। এতে জমানো টাকাসহ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
শিশুটির বয়স ৯ মাস। সে রাজশাহীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সন্তানের চিকিৎসার টাকা হারিয়ে বাবা-মা পাগলপ্রায় এখন। প্রিয় সন্তানের কথা চিন্তা করে শোকে বিহবল বাবা এখন শয্যাশায়ী।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কলিম উদ্দীন জানান, শিশুটির চিকিৎসা এখন তার বাবা-মা কিভাবে করাবেন সে চিন্তায় কারো ঘুম নেই। এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের উদারমনা ও দানশীলদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আগুনে শেষ হলো সন্তানের চিকিৎসার জন্য দিনমজুর বাবার জমানো টাকা
দরিদ্র দিনমজুর বাবা রিপন আলীর একমাত্র শিশু সন্তান রিভান। জন্মের তিন মাসের মাথায় রাজশাহী পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধরা পড়ে তার হার্টে ছিদ্র আছে...





