সাগরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে ২৩ জুলাই মধ্যরাত থেকে। আর এতেই দীর্ঘ ৬৫ দিন পর ফের কর্মব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ভোলার ৬৩ হাজার জেলে। উপকূলের ঘাটে ঘাটে চলছে এখন মাছ ধরার প্রস্তুতি। কেউ জাল বুনছেন, কেউবা জাল ফিশিং বোট প্রস্তুত করছেন।
ইলিশ ধরাকে কেন্দ্র করে একদিন পরেই সরগরম হয়ে উঠবে উপকূলের মাছ ঘাটগুলো। চিরচেনা রূপে ফিরবে মাছের আড়তগুলো। বেকার জেলেরাও সঙ্কট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী।
ভোলার উপকূলীয় মৎস্যঘাট ঘুরে জানা গেছে, শুধু সাগরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন ভোলায় এমন নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন, যারা গত ২০ মে থেকে বেকার দিন পার করে আসছেন।
৬৫ দিনের দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফের কর্মব্যস্ত হয়ে পড়বেন জেলেরা। তাই আগে থেকেই জাল, ফিশিং বোটসহ নানা উপকরণ নিয়ে সাগরে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কেউ আবার ফিশিং বোট রং দিচ্ছেন, ধোয়া মোছা করে পরিষ্কার করছেন। মাছ ধরা শুরুর খবরে জেলেপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। অভাব অনাটনের পর ঘরে ফিরবে সচ্ছলতা এমনটাই মনে করছেন জেলে পাড়ার বাসিন্দারা। দৌলখানের চরপাতা গ্রামের জেলে বধূ মিনারা ও আমেনা বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এত দিন সন্তানদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাইছি, এখন মাছ ধরা শুরু হলে আমাদের কষ্ট দূর হবে। পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে।
এ দিকে বেকার জেলেরা এত দিন ধার দেনা করে দিন কাটিয়েছেন। এখন সঙ্কট কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবেন এমন স্বপ্ন তাদের চোখ-মুখে। তাই মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
পাতার খাল এলাকার জেলে সালাউদ্দিন, হেলাল ও মাইনুদ্দিন বলেন, আমরা এত দিন সাগরে যাইনি। শনিবার থেকে মাছ ধরা শুরু হবে। তাই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ১৯ জন জেলে নিয়ে আমরা মাছ শিকারে যাবো।
চরফ্যাসনের স্লুইস ঘাট এলাকার জেলে ইব্রাহিম বলেন, জাল প্রস্তুত করেছি, ট্রলার মেরামত করেছি এখন বাজার করব। শনিবার রাতেই মাছ শিকারে নেমে পড়ব। সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এ বছর ইলিশের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ। তিনি বলেন, যেহেতু মাছ শিকার বন্ধ ছিল তাই জেলেরা সাগরে বেশি মাছ পাবে। ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমরা নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলেকে ৮৬ কেজি করে চাল দিয়েছি। ইতোমধ্যে ৫০ কেজি করে চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চাল শিগগিরই বিতরণ হবে। উল্লেখ্য, ইলিশসহ ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।