ভারী ও টানা বর্ষণে ভোলার লালমোহন উপজেলার ২৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির রোপিত আমন চারা তলিয়ে গেছে। উপজেলার বেতুয়ার খাল ও মেঘনা নদী সংলগ্ন এলাকার জমি ও মাঠের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে মাছ ধরার অবৈধ বেড়জাল ও খরছি জাল বসিয়ে পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ও স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
সরেজমিন রমাগঞ্জ, ধলী গৌরনগর ও লর্ড হার্ডিঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রোপা আমনের মাঠ পানিতে থৈ থৈ করছে। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে কচি আমনের চারা। পানির কারণে অনেক জমিতে কৃষকরা এখনো চারা রোপন করতে পারছেন না।
রমাগঞ্জ এলাকার কৃষক নুরে আলম, ছায়েদুল হক ও ইব্রাহিম খলিল জানান, সাতদরুন বিলের মাঠে তাদের জমির রোপিত আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির কারণে কিছু জমিতে এখনো ধান লাগাতে পারছেন না। পানি না কমলে কিংবা আবার যদি বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে এ বছর ধানের আবাদ একেবারেই বিফলে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
লর্ড হার্ডিঞ্জের কৃষক বশির মিয়া জানান, বৃষ্টিতে বেতুয়া খালের পানি বেড়ে তাদের গোটা মাঠ ভেসে গেছে। এ দিকে খালে অবৈধ বেড়জাল বসিয়ে পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ধানের মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে স্লুইস গেট খুলে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান তিনি।
চরভূতার কৃষক আব্দুর রসিদ জানান, তার ৮০ শতক জমির বোরো ক্ষেত অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। ফসল উৎপাদনের সবচেয়ে বড় উৎস উপজেলার সাতদরুন, চরমোল্লাজী ও বাউরিয়ার বিলসহ একাধিক মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের জন্য সব ক’টি খালের স্লুইস গেট খুলে দেয়ার দাবি জানান।
লালমোহন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রব মোল্লা জানান, এ উপজেলায় আবাদি জমি রয়েছেন মোট ২৪ হাজার ২২ হেক্টর। তার মধ্যে ২৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা আবাদ করা হয়েছে। বাকি জমিগুলোতে অন্যান্য ফসলের আবাদ করা হয়েছে।





