একদিকে পাতা কুঁকড়ানো রোগে আক্রান্ত মরিচ গাছ, অন্য দিকে দাম না থাকায় ফলন ভালো হলেও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন বগুড়ার নন্দীগ্রামের মরিচচাষিরা।
নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, গত বছরের চেয়ে এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হলেও আশানুরূপ দাম না থাকায় লোকসানের শঙ্কায় কপালে হাত পড়েছে নন্দীগ্রামের মরিচ চাষিদের। গত বছরের চেয়ে এ বছর বেড়েছে সব কৃষিপণ্যের দাম। সেই সাথে বেড়েছে উৎপাদন। ফলে আশানুরূপ দাম না থাকায় লোকসান হতে পারে বলে মনে করছেন চাষিরা। বর্তমান বাজারে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ।
এবার পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে। রিধইল গ্রামের মরিচ চাষি আবু মুসা বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এ পর্যন্ত আমার ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু মরিচের ভালো দাম না থাকায় এ বছর অনেক টাকা লোকসান হতে পারে। আরেক মরিচ চাষি আব্দুল মান্নানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, পাতা কোঁকরানো রোগে আক্রান্ত হয়েছে আমার এক বিঘা জমির মরিচ আবাদ। এ পর্যন্ত আমার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা নিয়মিত ওষুধ ছিটাচ্ছি, তবুও পাতা কোঁকরানো রোগ থেকেই যাচ্ছে। বুঝতে পারছি না কী করব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মরিচ চাষি জানান, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ করে তারা মরিচ চাষ করেছেন। বাজারের যে অবস্থা, এই দামে মরিচ বিক্রি করলে সংসারের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে। ভেবেছিলেন মরিচ চাষ করে লাভের মুখ দেখবেন কিন্তু সে আশা আর পূর্ণ হবে না। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, জহুরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।