নড়াইল সদর উপজেলার পইলডাঙ্গা গ্রামে স্বামীকে মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহবধূ কাজী সুমাইয়া ইসলাম আজ ছয় দিন ধরে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার স্বামী আশিক তাকে কিল-ঘুষি মেরে ও রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এতে সুমাইয়ার
তিনটি দাঁত ভেঙে যায়, ঠোঁট কেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ফুটে ওঠে।
এ ঘটনায় স্বামী আশিকসহ শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের নামে নড়াইল সদর থানায় মামলা হয়। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া ইসলাম লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ থেকে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের এগার মাস ধরে স্বামীকে মাদকাসক্ত থেকে ফেরানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন স্ত্রী সুমাইয়া। সম্প্রতি তার স্বামী নতুন আবদার তুলেছিল। তাকে ‘আর ওয়ান ফাইভ’ মোটর সাইকেল কিনে দিতে হবে। মোটরসাইকেলের এ আবদার পূরণ করতে দেরি হওয়ায় সুমাইয়ার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।
সুমাইয়ার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম বাদশা জানান, বিয়ের দুই মাস পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার পারিবারিকভাবে শালিস হয়েছিল। কিন্তুআশিকের নির্যাতন বন্ধ হয়নি । গত ছয় দিন আগে আমার মেয়েকে রড দিয়ে মারধর করায় সুমাইয়ার তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে। ঠোঁটে ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে। মাথা ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহ্ন ফুটে ওঠেছে। আমার মেয়ে এখন ঠিকমত কথাও বলতে পারছে না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
সুমাইয়ার বড় ভাই কাজী রমজান বলেন, সুমাইয়াকে নির্যাতনের ঘটনায় আশিকসহ তার বাবা-মা ও বোনের নামে মামলা হয়েছে। গত রোববার আদালত আশিকের জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার পার্থ সারথি রায় জানান, সুমাইয়ার মাথা, ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তার সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া হয়েছে।