নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় এ ঘটনা ঘটে।
একই সময় পাঁচ ডাকাতকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। সেইসাথে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও কিছু দেশীয় উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতারের কথা বলা হলেও দুজন নিহতের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
নিহত ডাকাতরা হলেন- উপজেলার মেঘনা নদী সংলগ্ন চর ঘাসিয়ার বাসিন্দা এবং ডাকাত ফখরুল গ্রুপের সদস্য কবির ও সাহারাজ। অপরদিকে, আটক করা ডাকাতরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় বাসিন্দা জিন্টু (৩৬), হারুন (৩৭), লিটন (৩৫), মোশারফ (৩৬) ও আজিম বেপারী (২৭)।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে পাঁচ ডাকাত আটকের বিষয়টি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্টগার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি। তবে দুই ডাকাত নিহতের বিষয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, নোয়াখালী জেলার মেঘনা নদী সংলগ্ন হাতিয়া উপজেলার ঘাসিয়া চর একটি অপরাধপ্রবণ অঞ্চল। ওই চরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ডাকাত খোকন গ্রুপ এবং ডাকাত ফোকরা বাহিনী বুধবার দিনগত রাত ৩টার দিকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এমন খবর পেয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের তিনটি অভিযানিক দল ঘাসিয়ার চরে অভিযান চালায়। ডাকাত দল কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বিচ্ছিন্নভাবে নৌকাযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় কোস্টগার্ড তাদের ধাওয়া করে লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর চর আবদুল্লাহ থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, ছয়টি রামদা ও পাঁচটি বল্লমসহ ডাকাত খোকন বাহিনীর পাঁচ সদস্যকে আটক করে। পরে জব্দ করা অস্ত্রসহ ডাকাতদের হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে চরের নিয়ন্ত্রণ ছিল ডাকাত খোকনের হাতে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন তিনি। তারপর চর এলাকা নতুন করে নিয়ন্ত্রণ নেন তার ভাই ফখরুল। কয়েক দিন আগে খোকন জামিন এসে আবার চরের নিয়ন্ত্রণ পেতে মরিয়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডাকাত ফখরুল ও খোকন বাহিনীর মধ্যে বুধবার দিবাগত রাতে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়। নিহত দুই ডাকাত ফখরুল গ্রুপের সদস্য।
এ বিষয়ে হাতিয়া কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাফিউল কিঞ্জল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে পাঁচ ডাকাতকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর স্থানীয় সূত্রে শুনতে পাই, ওই ঘটনায় দুই ডাকাত নিহত হয়েছে। তবে আমরা ঘটনাস্থলে থাকাকালীন দুই ডাকাত নিহত হওয়ার কোনো আলামত দেখতে পাইনি।





