পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে শফিকুল ইসলাম (৪৩) নামে জাতীয় পার্টির (জাপা) এক নেতাকে কুপিয়ে শরীর থেকে বাম পা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে গুরুতর জখম শফিকুল ইসলামের মা মোছা: মমতাজ বেগম (৬৫) মঠবাড়িয়া থানায় সাতজনো নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন।
আসামিরা হলেন তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদারের ছোট ভাই মো: নাসির হাওলাদার (৫০), ছেলে শামীম হাওলাদার (৪২), ছোট মাছুয়া গ্রামের মৃত ছালাম হাওলাদারের ছেলে ছগির হাওলাদার (৪৫), মধ্য তুষখালী গ্রামের মৃত গণি আকনের ছেলে হাবিব আকন (৫৫), হাবিব আকনের ছেলে হুমায়ূন (২৫), তুষখালী গ্রামের জুলফিকার আলী শরীফের ছেলে খায়রুর ইসলাম মুছা শরীফ (৫০) ও ছোট মাছুয়া গ্রামের মৃত আলী হোসেন পঞ্চায়েতের ছেলে বশির পঞ্চায়েত (৪২)।
আহত শফিকুল তুষখালী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও তুষখালী গ্রামের মো: আইয়ূব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে পুলিশের হাতে আটক হওয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদারের ছোট ভাই মো: নাসির হাওলাদারকে গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি-ব্যবসা সংক্রান্ত ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার, তার ছোট ভাই নাসির হাওলাদার, ছেলে শামীম হাওলাদার, সাবেক ইউপি সদস্য সগীর হোসেন হাওলাদার, মুছা শরীফ ও হাবিব আকনসহ বিভিন্ন জনের সাথে শফিকুলের বিরোধ চলে আসছিল। মুসা শরীফের সাথে চলমান একটি মামলায় শফিকুল আদালতে হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেলযোগে তুষখালী থেকে মঠবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। মাঝেরপুলের কাছে ফরাজি বাড়ির সামনে কালভার্টের উপরে আসা মাত্রই একটি মহেন্দ্র গাড়ি শফিকুলের গতিরোধ করে। এ সময় শফিকুল মোটরসাইকেল থেকে নেমে পেছনের দিকে দৌড় দিলে হামলাকারীরা মাহেন্দ্র থেকে নেমে তাকে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাম পা বিচ্ছিন্ন করে। এ সময় এলোপাথাড়ি কোপানোর কারণে শফিকুলের পেটের ভুঁড়ি বেড়িয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। স্থানীয়রা আহত শফিকুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান। পরে বরিশাল থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শফিকুলের অপারেশন সম্পন্ন হলেও গত দুই দিনেও তার জ্ঞান ফেরেনি বলে জানা গেছে।
পিরোজপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) মো: ইব্রাহিম জানান, তদন্তের স্বার্থে এ মূহূর্তে অনেক কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অপরাধীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের একাধিক টিম কাজ করছেন।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, মামলার এজাহার নামীয় ১ নম্বর আসামি তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদারের ছোট ভাই মো: নাসির হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।





