বগুড়ার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা লোন নিয়ে পলাতক ব্যবসায়ী সমীর প্রসাদ দত্তকে চেক ডিজঅনার মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও আজো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি বর্তমানে ভারতের কলকাতা ও শিঁলিগুড়িতে ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে। তার বাজেয়াপ্ত ব্যাংকের বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে বিক্রি ও ব্যাংকের মালিকানায় দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে আদালত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশক আগে সমীর প্রসাদ, তার দুই ভাই অনুপ কুমার দত্ত ওরফে ষষ্ঠী দত্ত এবং প্রবীর কুমার দত্ত ওরফে পিন্টু দত্তকে নিয়ে যৌথ মালিকানায় পরিচালিত শহরের রাজাবাজারের ‘দত্ত এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘স্টাইল গিফট শপ’ প্রতিষ্ঠান দু’টির নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কয়েক শ’ কোটি টাকা লোন গ্রহণ করেন। কিন্তু লোনের বিপরীতে যে সম্পত্তি বন্ধক দেন, তার মূল্য খুবই সামান্য। ফলে বিশাল অংকের লোন নিয়ে তা পরিশোধ না করেই ভারতে পাচার করেন।
একপর্যায়ে লোন পরিশোধে তাগাদা দিলে তিনি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখাকে ৩৮ কোটি টাকা পরিশোধে সাতটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু তার হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেক সাতটি ডিজঅনার হয়। প্রতিটি মামলায় সমীর দত্তের এক বছর করে মোট সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও টাকা আদায়ে বন্ধকী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে আদালত। ফলে সবার অগোচরে ভারত পালিয়ে যান সমীর দত্ত ও তার দুই ভাই অনুপ দত্ত ও পিন্টু দত্ত। সমীর দত্তের অপর ভাই নির্মল দত্ত বগুড়া ও ভারতে অবস্থান করেন।
সমীর দত্তের বিভিন্ন সূত্র জানায়, তিনি মাঝে মধ্যে ভারত থেকে বগুড়ায় যাতায়াত করেন। তারা চার ভাই শহরের রাজাবাজারের মৃত শ্যামা প্রসাদ দত্তের ছেলে।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন ব্যাংক আদালতে মামলা করলে আদালত বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ৬৮ কোটি টাকা দেনা আদায়ে দুই দফা ২৩৪ শতক জমি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হলেও উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় ব্যাংকের মালিকানায় হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। অপরদিকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায়ে কাহালু উপজেলায় ২৭২ শতক ধানী জমি বিক্রির জন্য প্রথম নিলাম ব্যর্থ হওয়ায় দ্বিতীয় নিলামের কার্যক্রম চলছে। এ দফায় উপযুক্ত মূল্য না পেলে এ জমিও ব্যাংকের মালিকানায় দিতে পারে আদালত।
সমীর দত্ত এক দশক আগে বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালকসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সমীর দত্ত জেলা আওয়ামী লীগের সে সময়ের একজন শীর্ষ নেতার আশির্বাদ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা লোন গ্রহণ করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে বগুড়া সদর থানার এসআই (সেকেন্ড অফিসার) মঞ্জুরুল হক জানান, ‘আমরা জানি, তিনি দেশে নেই। তাই তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’
সাত বছরের কারাদণ্ডের বিষয়ে বগুড়া জজকোর্ট-এর সিনিয়র আইনজীবি রুহুল আমিন খান বলেন, ‘সাতটি মামলায় আলাদা সাজা হলেও গ্রেফতারের পর আইন মোতাবেক তাকে এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।’





