আবহাওয়া ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরি নদীর দু’কূলজুড়ে দিগন্ত ছোয়া তামাক চাষের পরিবর্তে গড়ে উঠেছে সবুজ সবজি ক্ষেত। চলতি মৌসুমে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভরে গেছে শীতকালীন বিভিন্ন প্রজাতির ফসলে।
জানা গেছে, প্রতি বছর মাতামুহুরি নদীর বিস্তীর্ণ এসব এলাকাজুড়ে তামাক কোম্পানিগুলো চাষিদেরকে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় আশ্বাসে ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করায় তামাক চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন এলাকার কৃষকেরা।
দীর্ঘ সময় পরে হলেও তামাকের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতিকর দিকের ব্যাপারে সচেতন হয়েছেন কৃষকেরা। ফলে চলতি মৌসুমে এলাকার চাষিরা সবজি চাষে ঝুঁকেছেন। ইতোমধ্যে শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। এবার সবজি উৎপাদন ও ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে সবজির দামও ভালো থাকায় সবজি ও রবি ফসল উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজি ও রবি ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৮৬ হেক্টর জমিতে। ভাল ফলন হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন এলাকার প্রান্তিক চাষিরা।
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল হক আজিম দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, এ ইউনিয়নের চারপাশে ঘিরে মাতামুহুরী নদী। প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে নদীর দু'কূল বন্যার পানিতে ভেসে যায়। বন্যার পানিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা পলি মাটিতে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। যার ফলে এলাকার প্রান্তিক চাষিরা সার ও কীটনাশকের ব্যভহার ছাড়াই ভালো ফলন লাভ করেন। চলতি মওসুমে সবজি ও রবি ফসলের ফলন ভালো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের প্রান্তিক প্রবীন কৃষক মোহাম্মদ আহমদ কবির জানান, তামাক কোম্পানিগুলো এলাকায় চাষীদেরকে বিভিন্নভাবে তামাক চাষে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে উদ্যোগে এলাকার সবজি চাষিদের বীজ, সার, কীটনাশক ও আর্থিক সুবিধাসহ সহায়তা দিলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এ তামাক চাষ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকাজুড়ে চলতি মৌসুমে তামাক চাষের পরিবর্তে রকমারি ফসল, আলু, মরিচ, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি ও ফসলে ভরে গেছে শীতকালীন জমির মাঠ। ফলন ভালো হওয়ায় ও বেশ দাম পাওয়ায় এ খাতে চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলার বরইতলি, হারবাং, ডুলাহাজারা, সদর বাস টার্মিনাল, ফাঁসিয়াখালির বেন্ডিবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সবজির বাজার বসেছে। এতে এলাকার কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, চলতি শীতকালীন মৌসুমে এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা সবজি ফলানোর অনুকূল পরিবেশ থাকায় অগ্রিম চাষাবাদ শুরু করেছেন। চাষিরা নদীর মিঠা পানি ব্যবহার করতে পারায় সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদেরকে প্রয়োনীয় সহায়তার দেয়ার কথাও জানান তিনি।





