দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর অটোরিকশার চালক হত্যা মামলার মূল আসামি তাজেল ইসলামকে (২৭) গ্রেফতার করেছেন থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আশ্রাফুল ইসলাম।

শুক্রবার সকালে ঢাকা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর বানিয়ারচালা এলাকার এএমসি পোশাক কারখানা থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিকেলে দিনাজপুর জেল হাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার তাজেল ইসলাম উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর ঘাটপাড়া গ্রামের মো: হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে জানান, এর আগে গত ১৮ নভেম্বর ঢাকার ফকিরাপুল কাঁচা বাজার থেকে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি আসমাউল হোসেন আকাশ (২২) এবং ৩ নম্বর আসামি মামুনকে (১৮) গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন ১৯ নভেম্বর বিকেলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে, তারা দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন এবং হত্যার সাথে জড়িত মূল আসামি তাজেলের বিষয়ে পুলিশকে নিশ্চিত করে।

এরই সূত্র ধরে শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর বানিয়ারচালা এলাকার এএমসি পোশাক কারখানা থেকে জয়দেবপুর থানা পুলিশের সহোযোগিতায় হত্যার পরিকল্পনাকারী মূল আসামি তাজেল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

তাজেল ঘটনার পর পালিয়ে গিয়ে সেখানে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। গ্রেফতার মূল আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন ঘটনার দিন (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১০টায় পৌর শহরের ঢাকামোড় নামক স্থান থেকে অপরাধীরা অটোরিকশাটি ভাড়া নিয়ে যাওয়ার পথে শিবনগর ইউনিয়নের হক সাহেবের ইট ভাটার কাছে এলে অটোরিকশা চালক মো: জনি আহম্মেদ আর যেতে না চাইলে, জুসের সাথে চেতনা নাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে তাকে জোরপূর্বক খাওয়ায় এবং পাশের ইউক্যালিপটাস বাগানে নিয়ে ওই তিনজন মিলে গলায় কাঁচি দিয়ে খোঁচায় এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

এ সময় অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আতাউর রহমান ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর বিভিন্ন আলামতের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে প্রযুক্তির সহোযোগিতায় গত ১৮ নভেম্বর ঢাকার ফকিরাপুল কাঁচা বাজার থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আশ্রাফুল ইসলাম জানান, অটোরিকশা চালক জনি হত্যার ঘটনায় জড়িত তিনজন অপরাধীদের মধ্যে দু’জনকে গত ১৮ নভেম্বর ঢাকার ফকিরাপুল এলকা থেকে পুলিশ আটক করে। আটক ব্যক্তিদের জবানবন্দিতে স্বীকারক্তি অনুযায়ী মূল আসামি তাজেল ইসলামকে ঢাকার গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানা থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠান। তিনি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।