নোয়াখালীর সেনবাগে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল ১০টায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর নাম নাসরিন আক্তার (১৯)। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছাতারপাইয়া গ্রামের মো: জহিরের স্ত্রী।

রোববার বিকেল ৪টার স্বামীর বাড়িতেই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ দেখে বাড়ির লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। এদিকে নিহত গৃহবধূর লাশ রেখে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবর পালিয়ে গেছে।

নিহতের মা পান্না আক্তার জানান, প্রায় তিন বছর আগে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতারপাইয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে অটোরিকশা চালক মো: জহিরের সাথে বিয়ে হয় তার মেয়ে নাসরিন আক্তারের। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে মেয়ের উপর নির্যাতন করে আসছিল তার স্বামী জহির। তার স্বামী অন্য এক নারীর সাথে পরকীয়া করত, ঠিক মতো বাড়ি ফিরত না। মেয়ের খোঁজ-খবর রাখতে দুটি ফোন আমি নাসরিনকে দিয়েছিলাম। ফোনগুলো তার স্বামী ছিনিয়ে নেয়। সর্বশেষ গত ১৩ ডিসেম্বর ও ১৭ ডিসেম্বর তাকে মারধর করে তার শ্বশুরের পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে আমি মেয়ের স্বামীর বাড়িতে যাই। সেখানে নাসরিন আমাকে জানায় তাকে মারধর করে চিরতরে তাড়ানোর হুমকি দেয় তার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।