আর এক দিন পরই পয়লা জানুয়ারি। সরকার ঘোষিত বই উৎসবের দিন। কিন্তু বরিশাল বিভাগে চাহিদা অনুযায়ী বই এসে পৌঁছেনি। যে সংখ্যক পাঠ্য বই পৌঁছেছে তা যথেষ্ট নয়। এ জন্য বই উৎসব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মাঝে। এমনকি বিভাগীয় শিক্ষা অফিসে ৬ জেলার ৪২ উপজেলায় মোট শিক্ষার্থী এবং তার অনুকূলে কত সংখ্যক বইয়ের চাহিদা রয়েছে তারও সুনির্দিষ্ট তথ্য জমা হয়নি। শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, হঠাৎ করে কাগজের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অর্থ বরাদ্দ না বাড়ানোয় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত যে বই এসেছে সেগুলোর মানও নিম্নমানের।
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে মোট চাহিদা ১৩ লাখ ২১ হাজার ২০টি বই। এর মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলায় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৮০০টি, আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৮৮ হাজার ৮৪৮টি, উজিরপুরে ১ লাখ ৩ হাজার ৫১২টি, গৌর নদীতে ৮৬ হাজার ৭০০টি, বাকেরগঞ্জে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০টি, বানারীপাড়ায় ৮৫ হাজার ২০টি, বাবুগঞ্জে ৬৭ হাজার ৮০০টি, মুলাদীতে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৫০টি, মেহেন্দীগঞ্জে ২ লাখ ১০ হাজার ৬০০টি এবং হিজলায় ৯৪ হাজার ৩৫০টি নতুন বইয়ের চাহিদা রয়েছে।
বরগুনা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঞা বলেন, উপজেলায় মাদরাসা, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক এবং প্রাথমিকে মোট চাহিদা ১ লাখ ১৯ হাজার ৩১৭টি। তবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বই পেয়েছি ৫০ হাজার ১৩৮টি। এর মধ্যে চতুর্থ, পঞ্চম ও সপ্তম শ্রেণীর একটি বইও আসেনি। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর আংশিক বই এসেছে। মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম পর্যন্ত ৩টি বিষয়ের বই আসা বাকি রয়েছে। মাদরাসার ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণীর কোনো বই এখনো পৌঁছায়নি।
শুধু বরগুনা সদর উপজেলা নয়, ভোলার তজুমদ্দিন, পটুয়াখালীর গলাচিপা, দুমকি, ঝালকাঠির রাজাপুর, কাঁঠালিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসেও কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এ সব উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারাও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।
পিরোজপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইদ্রিস আলী বলেন, এখনো বই আসছে, কত সংখ্যক বই পেয়েছি তা ৩১ ডিসেম্বরের আগে বলা যাচ্ছে না। বছরের শেষ দিন পর্যন্ত যদি চাহিদার অনুকূলে বই না পৌঁছে তখন হয়তো শঙ্কার কথা বলা যাবে। তবে বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর বই আসতে দেরি করছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাক-প্রাথমিকের সব নতুন বই পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বই পৌঁছতে পারে। তবে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর কোনো বই এখনো পৌঁছেনি। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, উপজেলায় দুই লাখের বেশি বইয়ের চাহিদা। এখন পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর দুই বিষয়ে বই এসেছে। অন্য শ্রেণীর বই এখনো আসেনি।
উপজেলা এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বরিশাল বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং প্রাথমিক অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালকদের। বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার উপ-পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেনের কার্যালয় এবং মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রাথমিক শিক্ষা বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের সাথে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দুটি কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, প্রাথমিকে ১১ লাখ শিক্ষার্থীর অনুকূলে ৫০ লাখের বেশি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এখনো ৫০ লাখ বই এসে পৌঁছেনি। দুই দিনে সম্পূর্ণ বই এসে পৌঁছানো অসম্ভব। অপর দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার বিভাগীয় অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বিভাগের ৬টি জেলার মধ্যে বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, ভোলা জেলার চাহিদাপত্র তারা পেয়েছেন। ঝালকাঠি এবং পটুয়াখালী জেলার চাহিদাপত্র এখনো পায়নি। ফলে কত লাখ বইয়ের চাহিদা রয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। এই অফিসের কর্মকর্তারাও মনে করেন, নতুন বছরে বই উৎসব হলেও বিগত বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থী সব বিষয়ের বই হাতে পেলেও এবার তা মোটেই সম্ভব নয়।





