নীলফামারীর সৈয়দপুর থিম পার্কে প্রকাশ্যে চলমান অসামাজিক কাজে বাধা দেয়ায় এলাকার পৌর কাউন্সিলরকে বেধড়ক মারপিট করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- মালিক আবু বাশার মোহাম্মাদ সাঈদ, তার শ্বশুর কাজী মইনুল, শাশুড়ি রওশন ও স্ত্রী মুক্তা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাদের ছেড়ে দেয়ায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহত সৈয়দপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ারুল ইসলাম মানিক বলেন, সৈয়দপুর থিমপার্ক গড়ে উঠেছে রেলওয়ের জায়গায়। বিনোদন কেন্দ্রের আড়ালে সেখানে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলমান। বিশেষ করে রাস্তার পাশের পুকুরপাড়ে নিরিবিলি পরিবেশে কপোত-কপোতীর বসার স্থান করে দেয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে অনেকবার সতর্ক করেছি। তবুও তারা বিরত হয়নি।
তিনি জানান, ‘সম্প্রতি ওই পুকুরপাড় টিন দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে। এতে ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশাসহ নানা অনৈতিক কারবার বেড়েছে। এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যায় পার্কে গেলে কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। এতে প্রতিবাদ করলে অফিসে থেকে বেরিয়ে এসে থিমপার্ক মালিক সাঈদের শাশুড়ি রওশন আমাকে অতর্কিত থাপ্পড় মারে। পরে সাইদ, তার স্ত্রী মুক্তাসহ অন্যরাও আটকে রেখে এলোপাথাড়ি আমাকে মারধর করে। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন এলে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেয় তারা। পরে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে আমাকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। মূলত আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন- জাপা নেতা কাজী মইনুল রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে এই পার্ক গড়ে তুলেছেন। তার মেয়ে জামাইসহ এখানে বেআইনি কারবার চালাচ্ছেন। আবাসিক এলাকায় পার্কে অসামাজিক কাজ হওয়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আগে এলাকার লোকজন ভেতরে
ঢুকে এসবের প্রতিবাদ করলেও তারা তোয়াক্কা করেননি। এখন কাউকেই ঢুকতে দেয়া হয় না। এমনকি কাউন্সিলরকেও বাধা দিয়েছে। প্রতিবাদ করায় তাকে লাঞ্ছিত করেছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) শরিফুল ইসলাম বলেন, থিমপার্কের জায়গা রেলওয়ের। কারো নামেই এটি লিজ দেয়া হয়নি। এখানে যেকোনো স্থাপনা অবৈধ। লোকবলের অভাবে আমরা এটি উচ্ছেদ করতে পারছি না।
এ দিকে পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউল হক বলেন, সৈয়দপুর থিমপার্ক কর্তৃপক্ষ বিগত পৌর পরিষদের কাছে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারেনি। তাই তাদের লাইসেন্স বা অনুমোদন দেয়া হয়নি। দীর্ঘ দিন থেকে তারা অনেকটা গায়ের জোরেই পার্ক চালাচ্ছে।
শনিবার সকালে থিমপার্কে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয় এবং কর্তৃপক্ষ কেউ নেই বলে জানায় গেটম্যান কামরুল। পরে মুঠোফোনে সৈয়দপুর থিমপার্ক মালিক আবু বাশার মোহাম্মাদ সাইদ বলেন, তেমন কিছুই ঘটেনি। কেবল ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। মারপিট বা আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়। অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কথাও সত্য নয়।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে জানা যায়, এলাকাবাসী কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছে। এ ঘটনায় পার্কে তালা দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মালিকসহ চারজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে কাজী মইনুল হক মুচলেকা দেয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’





