জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী মডেল ইউনিয়নে রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের লোকজন রাস্তার পার্শ¦বর্তী জামি থেকে জোর করে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করছে। এতে রাস্তার পার্শ¦বর্তী জমির ফসল নষ্ট ও রাস্তার পাশেই খাল-ডোবার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরকার ঘোষিত মডেল ইউনিয়ন সাপধরীর দিঘাইড় থেকে ইন্দুল্লামারী হয়ে ভাংবাড়ী পর্যন্ত মাটি কেটে আড়াই কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণসহ পাঁচটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দুই কোটি ৫৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫৬ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হবে। জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। নির্মাণাধীন রাস্তাটির পাশ থেকে স্থানীয়দের জমির ফসল নষ্ট করে মাটি কাটা হচ্ছে। ফসলি জামিতে ছয়-সাত ফুট গভীর গর্ত করে মাটি তোলা হচ্ছে রাস্তায়। জামি থেকে রাস্তা ঘেঁষে মাটি কেটে নেয়ায় জমির বড় অংশই খাল-ডোবায় পরিণত হচ্ছে। এসব ফসলি জামি ছয়-সাত ফুট গভীর হয়ে যাওয়ায় এখানে আর আবাদ করা সম্ভব হবে না বলে জানান জমির মালিকরা। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জমির মালিকদের সাথে কোনো রকম যোগাযোগ না করেই মাটি কেটে নিচ্ছে। মাটির দাম বাবদ কোনো টাকা বা ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে না। ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় বাধা দিলে হয়রানিমূলক মামলা ঠুুকে দেয়াসহ নানাবিধ ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক হাফিজুর বলেন, আমি ৬০ হাজার টাকা দিয়ে এক বিঘা জমি ইজারা নিয়ে ভুট্টার চাষ করেছি। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন ভুট্টা খেত নষ্ট করে মাটি কেটে নিচ্ছে। আমার ইজারা নেয়া ভুট্টা খেতে শেষ।
মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, রাতের অন্ধকারে জমিতে বোনা ফসল নষ্ট করে মাটি কাটা হচ্ছে। রাস্তা ঘেঁষে এভাবে মাটি কেটে রাস্তায় ফেললে সেই রাস্তা কয়দিন টিকবে? রাস্তা তো নয়, ফসল নষ্ট আর সরকারি অর্থ লুটপাটের মহোৎসব চলছে যেন।
সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম মণ্ডল বলেন, রাস্তার পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করায় রাস্তার দুপাশে খাল ও ডোবার সৃষ্টি হচ্ছে। এ রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই সামান্য বৃষ্টিতেই আবার ধসে পড়বে। এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শ্যামল চন্দ্র সাহার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি বলেন, ‘সাক্ষাতে কথা হবে। এখন ব্যস্ত আছি।’
ইসলামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জামাল আব্দুন নাছের বাবুল বলেন, জোর করে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তায় দেয়ার নিয়ম নেই। যেভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটা সঠিক নয়। রাস্তাটি টিকবে না। এলজিইডি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।