নাগেশ্বরীতে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ঠান্ডায় কাঁপছে মানুষ ও পশুপাখি। ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) তুহিন মিয়া জানান, শেষ পৌষে কয়েকদিন ধরে চলছে মৃদু মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। রোববার সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃষ্টির মতো ঝরা কুয়াশায় আচ্ছাদিত থাকে দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময়। ঘড়ির কাটায় সময় পেরিয়ে গেলেও দেরিতে আসা সকাল দিয়েই শুরু হয় দিনের যাত্রা। এরপর এক চিলতে মিষ্টি রোদের আশায় তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকে মানুষ। একসময় এর দেখা মিললেও কিছু পরে কুয়াশায় ফের মিলিয়ে যায়। কমে গেছে দিনের দৈর্ঘ্য। নির্ধারিত সময়ের আগে রাতের আলিঙ্গনে নির্জনতায় ডুবে যায় চারদিক। এ অবস্থায় সর্বক্ষণ বয়ে চলা মৃদু বাতাসে ঠান্ডা বেড়েছে আরো। হাড় কাঁপানো এ ঠান্ডায় অস্থির হয়ে পড়েছে সবাই। অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বাড়ছে শীতবস্ত্রের চাহিদা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম জানান, পৌরসভা-১ ও ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় শীতবস্ত্রের চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার। আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি মাত্র ৭ হাজার ৫ শ’ কম্বল। যা ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আরো চাহিদা পাঠানো হয়েছে। পেলে তা বিতরণ করা হবে। এই ঠান্ডায় বিপদে পড়েছেন বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা। ঘনকুয়াশা আর হিমেল হাওয়া তাদের শরীরে বিধছে সুঁইয়ের মতো। গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে ও খরকুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করলেও যেন তা যথেষ্ঠ নয়। ঠান্ডা জনিত জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ মহূর্তে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি। আক্রান্তরা বেশিরভাগই আউটডোরে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।