নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ছালেক রিকাবদারকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করেছে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পরে হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে আবার কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে আদালতে পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও নিন্দা জানান শিবপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সাধারণ মানুষ।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নরসিংদীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত জামিন মঞ্জুর না করে জেল হাজতে পাঠায়।
জানা গেছে, শিবপুর থানা থেকে আদালতে নেয়ার সময় অন্য আসামির মতো বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ছালেক রিকাবদারের হাতে হ্যান্ডকাফসহ কোমড়ে রশি বাঁধা ছিলো। হ্যান্ডকাফসহ কোমড়ে রশি বাঁধা ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করে হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে আবার কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে আদালতে পাঠানোয় ক্ষুব্ধ শিবপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় রাজনীতিবিদসহ সাধারণ মানুষ। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক মামলায় যে কেউ গ্রেফতার হতেই পারে, কিন্তু তিনি কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, চোর-ডাকাত কিংবা খুনি নন যে তার কোমড়ে রশি বাঁধতে হবে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মোতালিব খান বলেন, ‘আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এভাবে কোমড়ে রশি বেঁধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।’
শিবপুর থানার মুক্তাযোদ্ধা কমান্ডার প্রফেসর আব্দুল মান্নান খান বলেন, ‘আবু ছালেক রিকাবদার বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করে হাতে হ্যান্ডকাফসহ কোমরে রশি বেঁধে ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। এতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহসীন নাজির বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেক রিকাবদার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগ অবগত না। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে হ্যান্ডকাফ পড়ানোর পরও কোমড়ে রশি বাঁধা হয়েছে, যাহা খুবই লজ্জার।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশীদ খান বলেন, ‘রাজনৈতিক মামলায় কাউকে গ্রেফতার করতেই পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজনৈতিক মামলার কারণে হাতে হ্যান্ডকাফ থাকার পরও কোমড়ে রশি বাঁধা খুবই দুঃখজনক। আবু ছালেক রিকাবদার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কোমড়ে রশি বাঁধা সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বলেন, ‘রাজনৈতিক মামলায় আবু ছালেক রিকাবদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কোমড়ে রশি বাঁধার বিষয়টি আমার জানা নেই, তার সাথে যারা ছিল তারা বলতে পারবে।’
উপজেলা বিএনপি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে। আর এই কর্মসূচি শিবপুরে যাতে বাস্তবায়ন না হয়, তাই আতঙ্ক সৃষ্টি করতে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে শিবপুরের নিজ বাসার সামনে থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানা পুলিশ জানায়, আবু ছালেক রিকাবদারের বিরুদ্ধে আগে মামলা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।





