আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নির্বাচন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বিসিসি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৬ মে, বাছাই ১৮ মে, প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ মে ও ভোট ১২ জুন।
এ দিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে খোকন সেরনিয়াবতকে। শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন পেলেন না সাবেক মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহ। আওয়ামী লীগের বাইরে জাতীয় পার্টি (জাপা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী দিয়েছে। তবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এ নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা ও আগ্রহ দেখা যায়নি। যদিও সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মরহুম আহসান হাবিব কামালের ছেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য কামরুল আহসান রুপন এ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন বলে শোনা গেছে। বরিশালের মানুষ উন্নয়ন ও পরিবর্তন চায় জানিয়ে কামরুল আহসান রূপন বলেন, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ এই সরকার দিনের ভোট রাতে করে কারচুপি করতে পারে। তবুও আমি চাই এই নির্বাচনে অংশ নিতে।
তবে বিএনপির সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। কারণ শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, এ সরকারের অধীনে আমরা দলীয়ভাবে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না। তাই এই নির্বাচন নিয়ে জনগণের মতো আমাদেরও কোনো আগ্রহ নেই।
বর্তমান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, আমার নেতৃত্বে বরিশাল মহানগরে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। দলের সাথে সাথে বরিশাল নগরকেও সুন্দর করে গড়ে তোলা হয়েছে। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন দলের স্বার্থে সবাই মিলে সেই প্রার্থীর পক্ষেই আমরা কাজ করব।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভকারী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবত) বর্তমান মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহর চাচা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোন আমেনা বেগমের ছোট ছেলে। সেই সাথে দল তাকে মনোনায়ন দিলে সর্বস্তরের মানুষের বিপুল সাড়া পাবেন এবং বিজয়ী হবেন বলে আশাও প্রকাশ করেছেন। তিনি মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে অনেক দিন ধরেই নগরে গুঞ্জন ছিল। তবে এর আগে বিষয়টি তেমনভাবে খোলাসা করেননি।
চাচা-ভাতিজার বাইরে বারবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েও না পাওয়া বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবারো মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিগত সময়ের মতো বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।
এসবের বাইরে গত সিটি নির্বাচনে আলোচনায় থাকা একমাত্র নারী প্রার্থী বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলার সদস্যসচিব ডা: মনীষা চক্রবর্তী এবারেও প্রার্থী হবেন বলে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের দল এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নেই, দল যা বলবে তাই হবে। তবে এই নির্বাচনে জনগণ থাকবে কি না, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করার মতো কোনো কিছুই দেখাতে পারেনি এখনো। সে ক্ষেত্রে প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রশ্নই আসে না।
এ দিকে জাতীয় পার্টি (জাপা) অনেক আগেই মেয়রপ্রার্থী মনোনীত করে রেখেছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশালের সদস্যসচিব প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসই হচ্ছেন তাদের প্রার্থী। যিনি গত নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। আর তার দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন জাপা নেতা বশির আহমেদ ঝুনু।
প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, নগরবাসীর সেবা করার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। আমাকে দল আগাম মনোনায়ন দিয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ বরিশালের মানুষ উন্নয়ন চায়, আর বরিশালের উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করতে চাই।
অপর দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়রপ্রার্থীরাও সিটি নির্বাচনে মাঠে থাকবেন বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও বরিশাল জেলা সভাপতি মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের- এ তিনজনের মধ্যে যে কেউ বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া উপ কমিটির সদস্য কে এম শরীয়াতুল্লাহ।





