স্বল্প খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনায় ভুট্টার চাষ করেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। চলতি বছর তিন হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে এ উপজেলায়। ভুট্টার বাম্পার ফলন হলেও বাজারদর কম হওয়ায় দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছে ভুট্টাচাষিরা।
শুরু দিকে দুই হাজার ২০০ টাকা বস্তা (৮২ কেজি) থাকলেও সেই দাম নেমে এসেছে দেড় হাজার টাকায়। বাজারদর নিম্নমুখি হওয়ায় লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে এখনো ভুট্টা ভাঙতে পারছে না অনেকে। ফলে মাঠের পর মাঠ শুকনো গাছসহ পড়ে রয়েছে ভুট্টা।
সরেজমিনে উপজেলার শিবনগর, আলাদিপুর, খয়েরবাড়ি, এলুয়ারীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় যে ভুট্টা ভাঙার যথেষ্ট উপযোগী হলেও মাঠেই পড়ে রয়েছে অনেক ভুট্টা। গাছসহ ভুট্টা শুকিয়ে গেলেও ভাঙার আগ্রহ নেই কৃষকের। বাজার স্থিতিশীল না হওয়ায় ক্রেতারাও ভুট্টা ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় তিন হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছিল। ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল ৩৯ হাজার ১৮০ টন। যার গড় ফলন ছিল হেক্টর প্রতি ১২ টন। চলতি বছরে তিন হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টাচাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫২৪ হেক্টর বেশি। এবার গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১২ টনেরও বেশি।
একাধিক চাষির সাথে কথা বলে জানা যায়, ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে, তবে বাজার দর কম। ক্রেতারাও ভুট্টা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ভুট্টা মাড়াই করার পর শুকিয়ে রাখাও সম্ভব হয় না। আবার শুকাতে অনেক জায়গা দরকার হয়। ঝড় বৃষ্টি না হলে মোচাসহ কিছু দিন রাখা সম্ভব। তাই ক্ষেতেই মোচাসহ রেখে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষা করছে তারা।
দাদপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, ‘আড়াই একর জমিতে ভুট্টাচাষ করেছি। ভুট্টা ৮৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। সরকারিভাবে ভুট্টা ক্রয় না করায় ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেয়া দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’
ফুলবাড়ী পৌর বাজারে ভুট্টার আড়ৎদার জাহিদ কাওছার বলেন, ‘আমরা শুকনা ভুট্টা ২৪ টাকা কেজি হিসাবে ৯৬০ টাকা মণ দরে ক্রয় করছি। তবে ভুট্টার দাম শুরুর দিকে এক হাজার ৩২০ টাকা মন থাকলেও বর্তমানে কমে গেছে।’
দাম কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভুট্টা বেশির ভাগ ব্যবহৃত হয় গো-খাদ্য ও বেকারি পণ্য তৈরিতে। কাঁচা ভুট্টা ক্রয় করার পর তা শুকাতে হয়। এতে অনেক ওজন কমে যায়। মিলারদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে ভুট্টার দাম। উৎপাদন বেশি হওয়ায় ভুট্টার দাম গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম। তাছাড়া ভুট্টা ক্রয়ের বড় পার্টি (ক্রেতা) হলো বিভিন্ন মুরগির ফার্ম। কিন্তু এবছর অনেক মুরগির ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে, তাই ক্রেতা কম এবং ভুট্টার আমদানি বেশি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার জানান, ‘চলতি বছরে তিন হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। যা গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১২ টনেরও বেশি। এ বছর ৪৫ হাজার ৫৭৬ টন ভুট্টার উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর উপজেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে, তবে দামের বিষয়টা আমাদের এখতিয়ারে নেই।’





