কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরকাওনা উত্তর পাড়া গ্রামের মো: দুলাল মিয়ার ছেলে আজিজুল হক গত সাত বছর আগে চাকরির জন্য বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসায় (পাসপোর্ট নম্বর-অঅ০২৭৮২১২) মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইনে যান। সেখানে পৌঁছার কিছুদিন পর থেকে অজ্ঞাত কারণে আজিজুলের সাথে তার পিতা-মাতা কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাই বাহরাইনে নিখোঁজ ছেলের খোঁজ পেতে তার দরিদ্র পিতামাতা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেকারত্ব গোছাতে ভিটেমাটি বিক্রি করে হতদরিদ্র আজিজুল ২০১৬ সালে পাকুন্দিয়া উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের আদম ব্যবসায়ী প্রয়াত সোহরাব উদ্দিন ও কামাল উদ্দিনের মাধ্যমে ঢাকার বনানী অফিসে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইনে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে দুয়েক দিন আজিজুল তার পিতা-মাতার সাথে মোবাইলে কথা বলেন। এর পর থেকে অজ্ঞাত কারণে গত সাত বছর ধরে তার সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না আজিজুলের পরিবার। তার ভাগ্যে কী ঘটেছে, বর্তমানে সে জীবিত না মৃত, তাও বলতে পারছে না কেউই। তাই নিখোঁজ আজিজুলের চিন্তায় উদ্বিগ্ন পিতা-মাতা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে যে যেখানে বলেছে, সেখানে ছুটোছুটি করেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ফলে নিরাশ হয়ে তারা এখন শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছেন। সেইসাথে চরম দারিদ্র্যের কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এদিকে কর্মক্ষম ছেলে হারানোর বেদনায় আজিজুলের বৃদ্ধা মাতা পারভীন আক্তার আজো ছেলের প্রতিক্ষায় থেকে যাকেই দেখে তাকেই জড়িয়ে ধরে আকুতি জানায় ছেলেকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে দেয়ার জন্য। কিন্তু এসবেও কোনো প্রতিকার না হওয়ায় আজিজুলের বৃদ্ধা মা এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে আজিজুলের বৃদ্ধ পিতা দুলাল মিয়া জানান, তার ছেলেমেয়ের মধ্যে আজিজুল ছিলেন দ্বিতীয়। সে বিদেশে নিখোঁজ থাকায় চরম অর্থকষ্টে রয়েছেন তারা। তাই তিনি শেষবারের মতো ছেলের খোঁজ পেতে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতার পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদেরও সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম রেনু জানান, গত সাত বছর ধরে বাহরাইনে ছেলের খোঁজ না পেয়ে তার হতদরিদ্র পিতামাতা বর্তমানে দিশেহারা ও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। তাই নিখোঁজ আজিজুলের সন্ধ্যান পেতে পরিবারের সাথে তিনিও একাত্মতা প্রকাশ করেন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।