কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মো: শরীফ মিয়া (২৩) নামে এক অটোরিকশাচালকের মাথা থেঁতলে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সেলিম (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার পর ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার বেলা ১১টায় করিমগঞ্জ থানার পুলিশ একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানায়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় এলাকার ফকির মার্কেট থেকে তাকে গ্রেফতার ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ।
গ্রেফতার সেলিম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের পাটধা কাঁঠালিয়া গ্রামের মো: হাবিবুর রহমানের ছেলে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আলম সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘শরীফকে কে বা কারা হত্যা করেছে তা নিয়ে প্রথমে আমরা অন্ধকারে ছিলাম। লাশের পাশে পাওয়া মোবাইল ফোনের সিমের তথ্য উদ্ধার করে আমরা অভিযান শুরু করি। মোবাইল সিমের নিবন্ধন তথ্যে সেলিমের ঠিকানা কিশোরগঞ্জ সদরের পাটধা গ্রাম উল্লেখ থাকলেও তিনি মূলত গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় এলাকার বসবাস করে বলে জানতে পারি। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সেলিম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে।’
ঘাতক সেলিমের বরাত দিয়ে ওসি শামসুল আলম সিদ্দিকী জানান, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সড়কের মজলিশপুর এলাকা থেকে সোমবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে মরিচ খালি বাজারে যাওয়ার কথা বলে যাত্রীবেশে ঘাতক সেলিম ও তার দুই সহযোগী শরীফের অটোরিকশায় ওঠেন। সড়কের বানিয়াচান ব্রিজে আসার পর তারা জোর করে অটোটিকে থামান। পরে তিনজনে মিলে শরীফকে ব্রিজের নিচে নামিয়ে সড়কের ঢালাইকৃত পাথর (ব্লক) দিয়ে মাথায় থেঁতলে হত্যা করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান। অটোরিকশা নিয়ে তারা প্রথমে কিশোরগঞ্জ শহরে আসেন। সেখান থেকে গাজীপুরের দিকে রওনা হতেই অটোর ব্যাটারির চার্জ কমে যায়। পরে বিন্নাটি বাজারে একটি দোকানে সারারাত অটো চার্জ দিয়ে ভোরে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে যান।
গ্রেফতার সেলিম পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় শরীফকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং পরে কিশোরগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। দুপুরে আদালত সেলিমকে জেল হাজতে পাঠায়।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম সিদ্দিকী নয়া দিগন্তকে বলেন, বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
নিহত মো: শরীফ মিয়া করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের ইন্দাচুল্লী গ্রামের মো: মতিউর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সোমবার অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।





