কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক সময়ের জনপ্রিয় ‘সখি সিনেমা’ হলের বিশাল ভবনটি মহিলা মাদরাসায় রূপান্তরিত হয়েছে। এখন এই মাদরাসায় এলাকার এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। সিনেমা হলের এই রূপান্তরে এলাকাবাসী মহা খুশি।
জানা যায়, কালের পরিক্রমায় চলচ্চিত্রের মন্দাভাব ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বড় পর্দায় সিনেমার দর্শক কমে গেছে। সারা দেশে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে সিনেমা হল। সেই সব সিনেমা হলের দৃষ্টিনন্দন ভবনগুলো মালিক পক্ষের কেউ কেউ ব্যবহার করছেন দোকানপাঠ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডে। এরই ধারাবাহিকতায় হোসেনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘সখি সিনেমা’ হলটিকে মাদরাসায় রূপান্তর করে এখানে দেয়া হচ্ছে নারীদের কুরআন শিক্ষা।
সখি সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারীরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে হলটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। তাই, ক্ষতি পোষাতে ভবনটি ভাড়া দেয়া হয়েছে। ভাড়া নিয়েছেন স্থানীয় ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মো: কামরুল ইসলাম হুসাইনী। তিনি হলটি ভাড়া নিয়ে সেখানে মহিলা মাদরাসার কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
জানা গেছে, প্রায় তিন যুগেরও বেশি সময় আগে এখানে গড়ে উঠেছিল ‘সখি সিনেমা’ হলটি। হোসেনপুর, নান্দাইল, গফরগাঁও ও পাকুন্দিয়া উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সিনেমা প্রেমীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল এটি। সেই সময়ের (৮০র দশক) টিকিট বিক্রেতা বৃদ্ধ লাল মিয়া জানান, তখন নতুন সিনেমা আসার সাথে সাথে টিকিট কাউন্টারের সামনে ভিড় জমে যেতো। টিকিট নিতে দর্শকদের মাঝে যেন যুদ্ধের মহড়া চলতো। বিশেষ করে ঈদে, পূজা-পার্বণে ও পয়লা বৈশাখের সময় সিনেমা প্রেমীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। এগুলো সবই এখন স্মৃতি। বিগত ৯-১০ বছর আগে হলটি বন্ধ হয়ে যায় দর্শকদের অভাবে। বছর খানেক বন্ধ থাকার পর হলের মালিক পরিবর্তন হয়। নতুন মালিক হলটি সংস্কার করলেও সেই জনপ্রিয়তা আর ধরে রাখা যায়নি। তখন কয়েক সপ্তাহ সিনেমা শো চললেও দর্শক না থাকায় আবার বন্ধ হয় হলটি। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে হলটিতে মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এটি নিশ্চয়ই ভালো উদ্যোগ।
এ ব্যাপারে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কামরুল ইসলাম হুসাইনী জানান, দীর্ঘ দিন ভবনটি অব্যবহৃত ছিল। পরে মালিকদের সাথে কথা বলে এটি ভাড়া নিই। এখন আল্লাহর রহমতে মহিলা মাদরাসার পাঠদান শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ মকসুদ জানান, আল্লাহর অশেষ রহমত যে এখানে এখন কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এলাকার এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা এখানে দ্বীনি শিক্ষা লাভ করছে। খুবই ভালো উদ্যোগ। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।