সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে এক শিক্ষার্থী চিরকুট লিখে গ্যাসের ট্যবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সোমাবার (১২ জুন) সকালে ওই শিক্ষার্থীর লাশ বাড়িতে আনা হয়। এর আগে সে ১০ জুন শনিবার এক চিরকুট লিখে গ্যাসের ট্যাবলেট খায়। রোববার (১১ জুন) সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তার নাম জাহানারা।
নিহত জাহানারা খাতুন (১৩) উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের আব্দুল মালেক শেখের মেয়ে এবং ডুমড়াই ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সে চিরকুট লেখে গ্যাসের ট্যাবলেট খায়। পরে পরিবারের লোকজন টের পেয়ে উপজেলা সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে বগুড়া সজিমেক হাসপাতালে পাঠান।
আত্মহত্যার পূর্বে সে তার মাকে উদ্দেশে চিরকুটে লেখে। তার ভাষায়, ‘মা শোন। আমার মৃত্যুর জন্য মুসার ছেলে ফরিদুল কাকা দায়ী। ফরিদুল জাহানারাকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রস্তাব দিলে তার প্রস্তাবের কথা জানায় তার প্রেমিক হুজাইফাকে। সে তার প্রেমিককে একটা গ্যাস ট্যাবলয়েট নিয়ে আসার কথা বলে। তার কথায় প্রেমিক প্রথমে রাজি না হলেও পরে তার সাথে রাত ১১টায় দুইটা গ্যাস ট্যাবলেট নিয়ে দেখা করে প্রেমিক হুজাইফা।’
চিরকুটে তার প্রেমিককে নির্দোষ লিখে তার মৃত্যুর জন্য দায়ি করে গেছে সম্পর্কে তার চাচা ফরিদুলকে। মুলত ফরিদুল তার চাচা হওয়ায় সে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা বলাটা মেনে না নিতে পেরেই আত্মহত্যা করেছে বলে চিরকুটে লিখে যায়।
এ ঘটনায় তার চাচি সাবিনা বেগম জানান, ফরিদুলের কারণেই আমার ভাতিজির মৃত্যু হলো। আমরা এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।
আবেগাপ্লুত হয়ে নিহত মাদরাসা শিক্ষার্থীর দাদা সোলেমান আলী জানান, আমার নাতিন মারা গেছে। যার জন্য মারা গেছে তার বিচার চাই। এ বিষয়ে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠিন শাস্তির দাবি করেন তিনি।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, আত্মহত্যা করা মাদরাসা শিক্ষার্থীর সুরতহাল বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল হাসপাতালে করা হয়েছে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। আমাদের থানায় আপাতত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।





