সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থেকে সলঙ্গার দিকে যাওয়া আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কারে সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক সংস্কারের কাজ দীর্ঘদিন পরে শুরু হলেও কাজ নিয়ে অভিযোগের যেন অন্ত নেই। এ দিকে অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট দফতর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাটিকুমরুল থেকে সলঙ্গা পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কটির পুনঃ সংস্কারের দায়িত্ব পায় পিয়াস কনস্ট্রাকশন। কাজের বরাদ্দ ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। পরে কাজটি আক্তার হোসেন ও আব্দুল মোতালেবসহ তিনজনকে সাব-কনট্রাক্ট দেয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কার কাজে অতি নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তা চওড়া করার জন্য দুই পাশে খনন করার পর সেখানে খোয়া ও মিশ্রিত বালু দিয়ে বক্স না করে শুধু নি¤œমানের রাবিশ দিয়ে কাজ সেরে ফেলা হয়।
জানা যায়, কার্পেটিং কাজের জন্য আনা হয় নি¤œমানের উপকরণ। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সড়ক থেকে উঠানো কার্পেটিং ও পুরনো ইট মেশিনে গুঁড়ো করে সেই ডাস্ট রাতের আঁধারে সলঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এনে রাখা হয়। পরে সেই ডাস্ট নিচে রেখে নতুন পাথর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যাতে কারো চোখে না পড়ে। বিষয়টি এলাকাবাসী টের পেয়ে বিভিন্ন দফতরকে মৌখিকভাবে অবহিত করে। গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতাও পান। পরে অনিয়মের বিষয়টি তাৎক্ষণিক উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়। এ দিকে সাব-ঠিকাদার আক্তার হোসেন নি¤œমানের উপকরণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গাড়ির ড্রাইভার ভুল করে কয়েক গাড়ি ডাস্ট নিয়ে এসেছে। সাব-ঠিকাদার আব্দুল মোতালেবও অনিয়মের কথা স্বীকার করেন।
তবে অনিয়মের বিষয়টি ঠিকাদাররা স্বীকার করলেও উপজেলা প্রকৌশলী কাজ বন্ধ রাখার উদ্যোগ না নিয়ে নীরব ভূমিকা রাখেন। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাইদ বলেন, পরিত্যক্ত ডাস্ট আনা হয়েছে এমন অভিযোগ তার কাছে এসেছে। তবে নি¤œমানের উপকরণ থাকলে বাছাই করে কাজ করা হবে। এ ছাড়া আপাতত এখন আর কোনো উপায় নেই। উপজেলা প্রকৌশলীর এমন কথায় মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টির বিষয়ে অবগত হয়েছি। নি¤œমানের উপকরণ অপসারণ করে কাজ চালিয়ে নেয়া হবে। কেউ যদি অনিয়ম করেই থাকে তার বিরুদ্ধে অধিদফতর ব্যবস্থা নেবে।