গায়ের রং কুচকুচে কালো। স্বভাবে ধীরস্থির শান্ত প্রকৃতির। সুঠাম শরীর সামনে-পিছে সমান। দেখতে আকর্ষণীয়। ওজন ৩০ মণ।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের দক্ষিণ আশতকা মানিকপুর গ্রামের নূরেরভিটার কৃষক মো: সবুজ ফকির এই গরুটির মালিক।
পাঁচ বছর ধরে গ্রামের ফকির পরিবারেই গরুটি লালন-পালন হচ্ছে। তাই আদর করে নাম রাখা হয়েছে 'কালো ফকির'। এই কালো ফকির এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের অন্যতম বড় এবং সুন্দর গরু।
কালো ফকিরকে দেখতে প্রতিদিন কৃষক সবুজ ফকিরের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন ক্রেতারাও। মালিক দাম হাঁকছেন ১৫ লাখ টাকা!
জানা গেছে, কোরবানির হাটে বিক্রি করার জন্য কৃষক এই ষাঁড়টি লালন পালন করছেন।
শাহীওয়াল (ক্রস) জাতের ৬০ মাস বয়সী (আট দাঁত) এই গরুটিকে এখন প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ কেজি করে খাবার দিতে হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, ছোলা বুট, শুকনো খড় ও গমের ভুসি। সে হিসেবে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা।
কৃষক মো: সবুজ ফকির জানান, তার চাচার কাছ থেকে তিন বছর আগে দুই বছর বয়সী 'কালো ফকিরকে' এক লাখ ১৮ হাজার টাকায় কিনেছিলেন তিনি। কেনার পর এটিকে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। প্রয়োজন মতো খাবার ও পরিচর্যায় এর আকৃতি বাড়তে থাকে। দিনদিন গরুটির ওজন বেড়ে এখন এক হাজার ২০০ কেজিতে এসে দাঁড়ায়। পশু চিকিৎসকদের সহযোগিতায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফিতার মাপে গরুটির ওজন নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিদিন এর ওজন এখন দেড় থেকে দুই কেজি করে বাড়ছে বলে কৃষক জানান।
ভালো দামে গরুটি যেন বিক্রি হয় এর জন্য তিনি তার ০১৭৬৮১১৭৫৯০ নম্বরে যোগাযোগের জন্য ক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো: আবু হানিফ বলেন, গরুটির মালিক একজন প্রান্তিক কৃষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গরু লালন পালন করেন। গত বছর তিনি দেশি জাতের তিনটি গরু বিক্রি করেছেন। এটিই প্রথম তার বড় জাতের মোটাতাজা গরু। গরুটি লালন পালনে কৃষক কোনো ধরনের হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেননি। গরুটি যতটা না ওজন তার চেয়ে সুন্দর বেশি। তাই ভালো দামে গরুটি যেন বিক্রি হয় এ প্রত্যাশাই করছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু লালন পালন হচ্ছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গরু মোটাতাজাকরণ হচ্ছে। করিমগঞ্জের এই গরুটিও অন্যতম একটি বড় গরু। দেখতেও এটি সুন্দর।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় গরুটি পালনে বিভিন্ন টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছে। আশা করছি কৃষক এটির ন্যায্য মূল্য পাবে।





