নওগাঁর মান্দায় ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে ছাত্রলীগের সভাপতির কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাকরি না দিয়ে উল্টা নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ'লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মান্দা উপজেলার মশিদপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদে চাকরির জন্য গত বছর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। ওই পদে ভারশোঁ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলী শেখের ছেলে ও ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন শেখকে দলীয় পরিচয়ের সুবাদে চাকরি দেয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করে উপজেলা চেয়ারম্যান মোল্লা এমদাদুল হক। তিনি মশিদপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক সভাপতি ছিলেন। শিক্ষাগত যোগ্য না থাকায় তাকে ওই পদ ছাড়তে হয়। তবে পদ ছাড়লেও তার মেয়ে মান্দা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবা সিদ্দিকা রুমাকে কৌশলে ওই মাদরাসার সভাপতি বানিয়েছেন। তাই তার মেয়ে মাদরাসার সভাপতি হওয়াই ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদে টাকার বিনিময়ে নিয়োগের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। আর দু’দফায় মোট ১৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় ছাত্রলীগের ওই সভাপতি।

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন শেখ সাংবাদিকদের কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান মোল্লা এমদাদুল হককে ৪ লাখ টাকা এবং তার মেয়ে মান্দা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মাদরাসার সভাপতি মাহাবুবা সিদ্দিকা রুমাকে ২ লাখ টাকা প্রদান করি। বাকি টাকা নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পরে দেব বলে তাদের সাথে আমার চুক্তি হয়। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানকে টাকা দেয়ার খবর শুনে মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মো: হারুন অর রশিদ এবং সহ-সভাপতি মজিবর রহমানও আমার কাছে টাকা দাবি করে বসেন। উপায় না পেয়ে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা দেই। কিন্তু ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত আমার নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় আমি চিন্তায় পড়ে যাই। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার আমি জানতে পারি তারা বোর্ড গঠন করে অন্য একজনকে চাকরি দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি আমাকে মদ্যপ অবস্থায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও বেধড়কভাবে মারধর ও শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং আমাকে টাকা ফেরত বা চাকরি কোনোটাই দিবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন। তাই আমি বাধ্য হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি অসহায় গরিব ঘরের সন্তান। টাকাগুলো অনেক কষ্টে জোগাড় করেছি। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

মজিদপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো: হারুন অর রশিদের মোবাইলফোনে একাধিক বার কল দিলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মজিদপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সভাপতি ও মান্দা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবা সিদ্দিকা রুমা সাংবাদিকদের বলেন, টাকা নিয়ে চাকরি দেয়ার কথা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তাই আমার টাকা নেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

টাকা নিয়ে চাকরি না দেয়া ও মদ্যপ অবস্থায় শারীরিকভাবে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোল্লা এমদাদুল হক সাংবাদিাদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা। এর কোনো ভিত্তি নেই।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।