কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের বেশির ভাগ রাস্তা-ঘাটে কমবেশি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের রাস্তাঘাট এখনো অবহেলিতই রয়ে গেছে। দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকায় এটি যানবাহন চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাত্র ৫০০ মিটার কর্দমাক্ত রাস্তা পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছেন কুড়িমারা, বাসুরচর, কাউনা ও বিশ্বনাথপুরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ। তাই ভুক্তভোগীরা রাস্তাটি পাকাকরণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।

সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয় বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, মজিবুর রহমান, রতন মিয়াসহ ভুক্তভোগী অনেকেই জানান, জনসাধারণের চলাচলে গ্রামীণ এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি পুলেরঘাট বাজার থেকে হোসেনপুর রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী আমতলা থেকে কাউনা বাজারগামী ইলিম পরদানীর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে এটি। তা ছাড়া এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন পাশের চার গ্রামের লোকজন দক্ষিণ কুড়িমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামী ফাউন্ডেশন মদরাসা, আঞ্চলিক পোস্ট অফিস ও স্থানীয় দুটি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে ভোগান্তি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউই কার্যকরী উদ্যোগ নেয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে এ রাস্তায় মারাত্মক কাদার সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। এমনকি খালি পায়ে হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই এ ভোগান্তি যেন আরো বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, এ কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পা পিছলে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ ব্যাপারে শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাটির অবস্থা বেহাল। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর পরই জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করছি এলজিইডি অফিস থেকে খুব শিগগিরই সার্ভে কার্যক্রম সম্পন্ন করে যথাযথ কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হবে।