ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্তবতী আমজানখোর ইউনিয়নের তারাঞ্জুবাড়ী পুকুরপাড় গ্রামের স্কুলছাত্রী নার্গিস আক্তার (১৪) হত্যা মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি সুভাস চন্দ্রকে (২৪) ৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

রিমান্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সুভাস চন্দ্র বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চিলিভিটা গ্রামের অনিল চন্দ্র গ্রাম পুলিশের ছেলে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তারাঞ্জুবাড়ী পুকুরপাড় গ্রামের জয়নুল হকের মেয়ে ও হরিণমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নার্গিস আক্তার প্রতিদিনের ন্যায় ২৮ জুন রাতে বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সে তার নানির শয়নঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১২টায় সে তার মামি এলিজাকে ডাকতে থাকলে ঘুমের ঘরে তার ডাকে সাড়া না দিলে এ সময় তার মামা নুরুজ্জামান তার ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে উঠে তার কাছে ডাকার কথা জানতে চাইলে, সে বলে তার ক্ষুধা লেগেছে কিছু খাইতে হবে। একথা শোনার পর তার মামা তাকে বিস্কুট খেতে দেয়। বিস্কুট খাওয়া শেষে নাগিস আক্তার নলকূপ থেকে পানি এনে পান করার পরে বাথরুমে গিয়ে শয়ন ঘরে ফিরে আসেনি। একপযার্য়ে বাড়ির প্রাচীরের ওপর থেকে লাফ দেয়ার শব্দ পেয়ে তার মামা নুরুজ্জামান উঠে মসজিদের সামনে গেলে এ সময় তার ভাগনী নার্গিস আক্তার ও পার্শ্ববতী চিলিভিটা গ্রামের সুভাস চন্দ্রকে (২৫) দেখতে পেলে এ সময় তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। রাতেই নার্গিসের মামা নুরুজ্জামান মুঠোফোনে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাদেকুল ইসলামকে ঘটনাটি জানান। পরে তিনি সুভাস চন্দ্রের বাড়িতে গিয়ে তার বাবার কাছে তার ভাগনী নার্গিস আক্তারের সন্ধান চাইলে, সুভাস চন্দ্রের বাবা এ সময় তাকে বলেন, তার ছেলে সুভাস চন্দ্র তিনদিন আগে শ্বশুড় বাড়িতে মেহমানি খেতে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। অথচ সে ঘটনার দিন সুবাস চন্দ্র ক্যাম্পের হাটে তার দোকানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করেছে।

মৃতের পরিবারের লোকজন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে গভীর রাতে সুভাস চন্দ্রসহ দুর্বৃত্তরা নার্গিসকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বাড়ির অদূরে এক কিলোমিটার দূরে জৈনেক জামাল উদ্দীনের পাট ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার পর তার পড়নের ওড়না দিয়ে তার গলায় শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার পর তার লাশ পাট ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরদিন ২৯ জুন বুধবার দুপুরে ওই এলাকার কৃষাণি রেনু বেগম মাঠে ঘাঁস কাটতে গেলে পাটক্ষেতে পরিত্যক্ত অবস্থায় কিশোরী নার্গিস আক্তারের লাশ দেখতে পান। এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে কিশোরীর লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল আনাম ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহসহ ঠাকুরগাঁ ডিবি ও পিবিআই, সিআইডি'র উচ্চ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি টিম ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেন।

এ ব্যাপার নার্গিসের মামা নুর জামান স্থানীয় থানায় ৩ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। লাশ উদ্ধারের পরদিন রাতে পুলিশ সুভাস চন্দ্রকে গ্রেফতার করে ঠাকুরগাঁও আদালতের বিচারকের কাছে হাজির করা হয়।

এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল আনাম বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর রহস্যের তদন্ত চলছে, এখন সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।