গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার খাল-বিল ও জলাশয়ে ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে চায়না ম্যাজিক ও কারেন্ট জাল। এতে করে নির্বিচারে নিধন হচ্ছে দেশীয় ছোট জাতের মাছ। প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে ডিমওয়ালা মাছ। নিধন হচ্ছে শোল, কৈ, পুঁটি, শিং, টেংরা, রিঠা, মাগুর, রুই, কাতলা ও আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। ব্যাঙ, সাপ, কচ্ছপ, শামুকসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীও মারা পড়ছে। ফলে হুমকিতে পড়ছে তাদের জীবনচক্র আর হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের কলুন গ্রামের বাসিন্দা ও আটালাব বাজার কমিটির সেক্রেটারি নাজমুল হোসেন রিপন জানান, প্রতিদিন সকালে-বিকেলে ছোট ছোট পোনা মাছ নিয়ে বাজারে আসেন জেলেরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সরেজমিন ঘুরে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের বেরুয়া ও ফুলদী ব্রিজ সংলগ্ন নলী বিল, ফুলদী দক্ষিণ বাঙ্গালীর বিল, মাদলা বিল, বেলা বিলের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে এই জালের ফাঁদ পেতে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, চায়নার ম্যাজিক জাল এক ধরনের বিশেষ ফাঁদ। এটি প্রায় ২০ ফুট থেকে ৮০ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। দেখতে এটি ছোট ছোট খোপের মতো। এ জাল খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে বাঁশের খুঁটির সাথে দুই মাথা বেঁধে রেখে দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর তুললে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এ জালে আটকা পড়ে। এলাকায় এই জাল ব্যবহারের কারণে মুক্ত জলাশয়ের মাছ শেষের পথে। শত শত মানুষ কালীগঞ্জের বিভিন্ন বাজার থেকে এই জাল কিনে থাকে। তাই ম্যাজিক জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে এ অঞ্চলে দেশীয় মাছ একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।