মুফতি আবুল কালাম কাসেমির তিরোধানে মেহেরপুরবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে মেহেরপুর উলামা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার মেহেরপুর উলামা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ‘মুফতি আবুল কালাম কাসেমি : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন মন্তব্য করেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি জুনায়েদ আল হাবিব। উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুফতি হাফিজুর রহমান মেহেরপুরী, উপদেষ্টা সহ-সভাপতি মাওলানা শাহ আলম, মাওলানা খাদিমুল ইসলাম ও মাওলানা খায়রুল বাশার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি জুনাইদ আল হাবিব সাহেব বলেন, মুফতি আবুল কালাম কাসেমি ছিলেন মেহেরপুরের প্রথম সারির আলেমে দ্বীন। তার মৃত্যুতে মেহেরপুরবাসীর এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

মেহেরপুর উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি হাফিজুর রহমান মেহেরপুরী বলেন, মুফতি আবুল কালাম কাসেমী ছিলেন মেহেরপুর উলামায়ে কেরামের মুরুব্বি। তিনি একদিকে মুনাজারার মাধ্যমে বাতিলের মোকাবেলা করেছেন। অন্যদিকে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হকের আওয়াজ বুলন্দ করার প্রয়াস পেয়েছেন। এছাড়া ওয়াজ ও বয়ানের মাধ্যমে মানুষের সাথে মেশার চেষ্টা করেছেন। মানুষকে দ্বীনের ওপর উঠানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, মরহুমের মাঝে উম্মাহর দরদ ছিল প্রচুর। তিনি সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য গঠন করেছিলেন মেহেরপুর উলামা পরিষদ। সমাজকে ইসলামী ছাঁচে ঢেলে সাজানোর জন্য নিয়েছিলেন নানামুখী উদ্যোগ। তার এসব অবদানের কারণে মেহেরপুরবাসী সবসময় তাকে স্মরণ করবে।

মেহেরপুর জামিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষাসচিব মুফতি আব্দুল্লাহ বলেন, মরহুম মেহেরপুরের ওলামা পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। এ অঞ্চলে ইলমচর্চার ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়। মেহেরপুরবাসী এজন্য তাকে সবসময় স্মরণ করবে।

উল্লেখ্য, মুফতি আবুল কালাম কাসেমী মেহেরপুর জেলার বলিয়ারপুরে ১৯৭১ সালের জুন মাসে জন্মগ্রহণ করেন। ভারতের ঐতিহাসিক দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দসহ নানা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ আট বছর লেখাপড়া করেন তিনি। অতঃপর দেশে ফিরে দাওয়াত ও শিক্ষকতায় নিজেকে ব্যাপৃত করেন।

পরপর তিনবার ব্রেইন স্ট্রোক করে দীর্ঘ আড়াই মাস শয্যাশয়ী থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) রাত ৯টায় নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, দুই মেয়ে ও দুই স্ত্রী রেখে যান।