বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের নন্দীগ্রাম উপজেলার কুন্দারহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ২৮ শতক জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন একজন সাবেক অতিরিক্ত সচিব। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সরকারের এ জমিতে টার্মিনাল নির্মাণ করার কথা ছিল। সেই জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ শুরু করেছেন অভিযুক্ত অতিরিক্ত সচিব হাইয়ুল কাইয়ুম। তার বাড়ি নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম এলাকায়। তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্টিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি অবসরে গেছেন ২০২০ সালে।
স্থানীয়রা জানান, কুন্দারহাট এলাকায় মহাসড়কে ধানের বড় বাজার বসার কারণে যান চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এ কারণে মহাসড়কের পাশে ১৯৬৩ সালে অধিগ্রহণ করা জমিতে টার্মিনাল নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় প্রশাসনের। তিন বছর আগে ওই জমিতে কলাগাছ লাগিয়ে চার দিক দিয়ে ঘিরে ফেলেন হাইয়ুল কাইয়ুম। এর আগে ২০১৯ সালে পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে এ জমির পাশে ২১৩ শতক জায়গা কেনেন তিনি। এর পরই জমি দখলে নিতে পাঁয়তারা শুরু করেন তিনি। সবশেষ এক সপ্তাহ আগে দোকান নির্মাণ শুরু করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোকানঘরগুলো ভাড়াও দিয়েছেন।

কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম আর জামান রাসেল বলেন, হাইয়ুল কাইয়ুম সরকারের সাবেক বড় কমকর্তা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে এলাকাবাসী সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানিয়েছে। তিনি আরো জানান, এই সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ কেনার অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) রয়েছে।
বুড়ইল ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর জিয়া রহমান বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই ওই জমিতে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার কথা। তবে ওই জায়গায় একজন মার্কেট নির্মাণ শুরু করেছেন বলে শুনেছি। টার্মিনালটি হলে উপজেলার কৃষক ও ধান ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাইয়ুল কাইয়ুম বলেন, আমার জায়গায় আমি মার্কেট নির্মাণ করেছি। তবে টিনশেড ঘরের ভেতরে হাইওয়ে রাস্তার কিছু জায়গা পড়েছে।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, হাইয়ুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের খবর পেয়ে বার বার কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি না শুনে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেছেন। অচিরেই ওই ঘরগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।