চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় এবার আবহাওয়া অনকূলে থাকায় সোনালি আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষকরা আপাতত খুশি হতে পারছেন না পাটের দাম পড়ে যাওয়ায়। মৌসুমের শুরুতেই পাটের দাম মণ প্রতি হাজার টাকা কমে যাওয়ায় আপাতত হতাশ পাট চাষিরা। তাদের দাবি, যত শিগগির সম্ভব পাটের দাম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে সরকারের উচিত পাটের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া।
মতলব উত্তর উপজেলায় ইতোমধ্যেই ক্ষেত থেকে পাট কাটা শুরু হয়েছে। অনেকে আবার পাট পরিপত্র করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরই মধ্যে মুক্ত জলাশয়ে জাঁক দেয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজও শুরু করেছেন কেউ কেউ। কিন্তু দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। সরকারি ও বেসরকারি পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে সারাক্ষণই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এবারের পাট চাষিরা।
মতলব উত্তর উপজেলায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বেশির ভাগ এলাকাতেই কৃষকেরা ক্ষেত থেকে পাট কাটা শুরু করেছেন। কোথাও মাঠ থেকে পাট কেটে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথাও পাট পচানোর জন্য জাঁগ দেয়া হচ্ছে। আবার কোথাও জাঁগ থেকে পাট তুলে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে।

পাটচাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত এক দশক আগেও পাটে তেমন লাভবান হতে পারছিলেন না তারা। কোনো কোনো বছর পাট চাষ করে লোকসানে পড়তে হয়েছে তাদের। তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তবে গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমের শুরুতেই চাষিরা পাট চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেন। অনুকূল আবহাওয়ায় পাটের ফলনও এবার ভালো হয়েছে। কিন্তু পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর দাম কেমন হবে এ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন পাটচাষিরা।
পাটের ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার ‘মৌসুমি’ শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। সুগন্ধি গ্রামের রওশন আরা বেগম, বেনু বেগম ও খোশেদা বেগম জানান, এক আঁটি পাটের আঁশ ছাড়াতে ২০ টাকা পাওয়া যায়। তাতে সব মিলিয়ে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আয় করা যায়। এবার পাটের আবাদ বেশি হওয়ায় ব্যস্ততাও বাড়বে আমাদের। আয় রোজগারও ভালো হবে আশা করছি।
এ দিকে পাইকাররা বলছেন, মিল মালিকরা পাটের সঠিক দাম না দেয়ায় এবং গত বছরের বকেয়া বিল পড়ে আছে। সেই বকেয়া পরিশোধ না করলে এমনিতেই আমাদের কম মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনতে হবে।
জানা যায়, উপজেলায় গত বছর কৃষকরা মণ প্রতি দুই হাজার ৭০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় কৃষক পাট বিক্রি করলেও বর্তমানে পাটের দাম একেবারেই কম। প্রতি মণ পাট দুই হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। এ দিকে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ১৮০ হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে দেশী পাট ৯০ হেক্টর, তোষা পাট ৮৫ হেক্টর ও অন্যান্য পাট ৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পাটের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। এখন পাটের দাম কিছুটা কম। তবে, কৃষকরা যদি ঘরে তুলে দেড়-দুই রেখে দেন তা হলে পরবর্তী সময়ে তারা আশানুরূপ দামে পাট বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করা যায়।
ওই কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, চলতি বছরে এ উপজেলায় পাটের ফলনও ভালো, পাট জাঁগ দিতেও তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এবার পাটের আঁশের মানের দিক দিয়েও বেশ ভালো হবে বলে আশা করছি। এই ধারা বজায় থাকলে আশাকরি পাটের যে সোনালি দিন ছিল সেটা আমরা আবার ফিরে পাবো। মতলব উত্তর উপজেলায় পাটের উৎপাদন ভালো হওয়ায় চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আশা করছি, পাটের ন্যায্য দাম বজায় থাকলে কৃষকরাও লাভবান হবেন। সেক্ষেত্রে সামনের বছরগুলোতে আরো বেশি বেশি পাট চাষের দিকে ঝুঁকবেন চাষিরা। এতে ফিরে আসবে পাটের সোনালি দিন।