অনিরাপদ হয়ে উঠেছে ঢাকা-ডেমরা সড়ক। প্রতি রাতে ঘটছে ছিনতাই ও দুর্ঘটনা। সন্ধ্যার পরে যানবাহন থামিয়ে প্রকাশ্যেই চলছে চাঁদাবাজি। পণ্যবাহী গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নানা পণ্য। রাস্তার পাশের মদের বার থেকে মাতালরা বের হয়ে রাতে নাজেহাল করছে পথচারীদের। উল্টোপথে আসা ময়লার গাড়ি ও লেগুনাগুলো রাত হলেই যমদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তা এখন পথচারীদের কাছে আতঙ্কের নাম। এমন কোনো অপরাধ নেই যা না ঘটছে এই রাস্তাটুকুর ভেতরে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, লুট, দুর্ঘটনা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সব অপরাধই এখানে ঘটতে দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, এই ৭ কিলোমিটার সড়কে অন্তত চারটি স্থানে রাতের বেলায় প্রকাশ্যেই পরিবহন থেকে চাঁদা নেয়া হয়। দিনের বেলাতেও এই চাঁদাবাজদের মাঝে মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু রাতে ট্রাফিক পুলিশ চলে যাওয়ার পর শুরু হয় এই হলুদ বাহিনীর চাঁদাবাজি। তাদের প্রত্যেকের শরীরে থাকে হলুদ-নীল পাতলা জ্যাকেট। কোনো কোনো জ্যাকেটের ওপর লেখা থাকে সিটি কর্পোরেশন। সাধারণ মানুষ দেখলে মনে করবে এরা সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগ করা বাহিনী। আসলে এরা চাঁদাবাজ। যাত্রাবাড়ী মোড় পার হয়ে কাজলারপাড় মোড়ের একটু আগে অন্ধকারের মধ্যে রাত হলেই এক গ্রুপ নেমে যায় চাঁদাবাজিতে। ছোট ছোট পিকআপ এবং ইজিবাইকগুলো এদের টার্গেট। ১০-২০ টাকা হারে এরা চাঁদা নেয়। ড. মাহবুবুর রহমান কলেজের আগে প্রতি রাতে আরেকটি চাঁদাবাজ বাহিনীকে দেখা যায়। তাদের টার্গেট, মিনি ট্রাক, পিকআপ, ইজিবাইক ও অটোরিকশা। আরেকটি চাঁদাবাজ গ্রুপকে দেখা যায় কোনাপাড়া মোড়ে। এই গ্রুপটি বেশ বড়। এখানে ৮-১০ জনের একটি গ্রুপ সিটি করপোরেশনের জ্যাকেট পরে চাঁদাবাজি করে। চাঁদা না দেয়া পর্যন্ত যানবাহন আটকে রাখা হয় এখানে। আরেকটি চাঁদাবাজ গ্রুপ লক্ষ করা যায় স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায়। এখানে নানাদিক থেকে যানবাহন আসে। এই যানবাহনই চাঁদাবাজদের টার্গেট।
যাত্রাবাড়ী পাইকারি বাজারে আসা যানবাহনগুলো কিছু কাজলারপাড় থেকে ঘোরাতে হয়। এই ঘোরানোর সময় গাড়ির গতি কমে যায়। আর রাত ৮টার পরে এখানে এমনিতেই দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। আর থেমে থাকা যানবাহন থেকে নানা পণ্য নামিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। প্রতি রাতেই শতশত মানুষের চোখের সামনে এই অভিনব লুটের ঘটনা ঘটছে। যাত্রাবাড়ী ছাগল মার্কেট এলাকায় প্রতি রাতেই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। শামীম নামে এক ব্যক্তি গত সোমবার রাতে জানান, সন্ধ্যার পরে তিনি ওই ছাগল মার্কেটে গিয়েছিলেন। সেখানে দুর্বৃত্তরা তার পকেট থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এমনকি কোন কোন সময় এখানে ছাগল ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। কেউ ছাগল কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ নেয়।
কোনাপাড়া পার হয়ে বাঁশেরপুল এলাকায় সদ্য গড়ে উঠেছে একটি মদের বার। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে লাইসেন্স নিয়েই এই মদের বার গড়ে উঠেছে। প্রতি রাতে এখানে পথচারীরা নাজেহাল হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মদ খেয়ে প্রতি রাতে কিছু মদ্যপ রাস্তায় বের হয়ে যায়। এরা পথচারীদের ওপর হামলে পড়ে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে সিকিউরিটি প্রয়োজন তা ওই বারের নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে মদ্যপরা অসংলগ্ন হয়ে রাস্তায় বের হয়ে যায় এবং সেখানে যে পথচারীদেরকে পায় অনেক সময় তাদেরকে নাজেহাল করে। মদ্যপ অবস্থায় পথচারীদের গায়ে মোটরসাইকেল তুলে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে সম্প্রতি। এ ব্যাপারে ডেমরা থানার ওসির সাথে গত রাতে কথা হলে তিনি বলেন, এমন তো হওয়ার কথা নয়। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তবে অবশ্যই বার কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাজলার পাড়ে গড়ে উঠেছে মিনি বাস টার্মিনাল। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন, কাজলার পাড়ে রাস্তার পাশে শতশত গাড়ি রাতে পার্কিং করা হয়। খালি গাড়িগুলোর ভেতরে রাতে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় অনেকেই। তারা বলেন, এই নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না। রাতে কাজলারপাড় থেকে যাত্রাবাড়ী মোড় পর্যন্ত উল্টো পথে ময়লার গাড়ি ও লেগুনাগুলো চলাচল করে। রাস্তার বাঁ দিক যানবাহনে ঠাঁসা থাকায় ওই দুই শ্রেণীর গাড়ি এবং সাথে কিছু ইজিবাইক ও অটোরিকশা রাস্তার ডান দিক দিয়ে প্রবেশ করে এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। যে কারণে এই এলাকায় প্রতি রাতেই ঘটছে দুর্ঘটনা।





