জনবল সঙ্কটে ভুগছে লাকসাম উপজেলার খাদ্য উৎপাদন বান্ধব সরকারি তিন দফতর। এতে খাদ্য উদ্বৃত্তের এ উপজেলায় খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। খাদ্য উৎপাদন বান্ধব সরকারি এ দফতরগুলোর মধ্যে রয়েছে, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দফতর।
সরেজমিন দেখা যায়, মাত্র দু’জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নিজেই করছেন কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটরের কাজ। আর অফিস ঝাড়– দেয়াসহ দরজা-জানালা খোলা-বন্ধ করার কাজ বাইরে থেকে লোক এনে করা হচ্ছে। কখনো লোকজন না পাওয়া গেলে অগত্যা কর্মকর্তা নিজেই সব কিছু সামলান।
এদিকে মাঠপর্যায়ে খাদ্য উৎপাদনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়েও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তার পদ শূন্য। দু’জন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার একটি পদও শূন্য রয়েছে। দু’জন পিপিএম পদের একজন পার্শ্ববর্তী লালমাই উপজেলায় প্রেষণে কর্মরত। আর উপজেলায় ২২ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ১৬ জন।
অপরদিকে খাদ্য উৎপাদনে অন্যতম সহায়ক দফতর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়েও জনবল সঙ্কট। দীর্ঘদিন ভেটেরিনারি সার্জন ও উপজেলা লাইভস্টক এসিস্ট্যান্ট (সম্প্রসারণ) পদ দুটি খালি থাকায় পশু-পাখির চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া কম্পিউটার অপারেটরের পদও খালি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: একেএম রকিবুল হাসান জানান, চারটি পদে লোক নেই। অন্যদের পাশাপাশি তিনি নিজেই তাদের কাজ সামলান। পশু-পাখির চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণকে সেবা প্রদানে প্রায়ই বিলম্বসহ বিব্রতকর অবস্থায়
পড়তে হচ্ছে।