ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার দীর্ঘ অনশন শেষে বিয়ের শুভ পরিণয় হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শনিবার হতে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের জন্য অনশন শুরু করেন শিরিন নামের ওই প্রেমিকা।
প্রেমিক বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বিশ্রামপুর গোয়ালটুলি গ্রামের সেনাবাহিনীর সদস্য কাওসার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের সনগাঁও গ্রামের শাহাদতের মেয়ে ও কলেজছাত্রী শিরিন আক্তারের সাথে ভানোর গোয়ালটুলি গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সেনাসদস্য কাউসারের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। এরপর শুরু হয় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। দিনের পর দিন প্রতিমুহূর্তে মুহূর্তে চলে ফেসবুক মেসেঞ্জারে মেসেজ আর চ্যাটিং। দু'জনের সম্পর্কের গতিধারা হয়ে যায় গভীর থেকে গভীরে।
এর মাঝে কাউসার ছুটিতে এলে শিরিনকে নিয়ে ঘুরে বেডায় পাড়িয়া রংবাগ চা বাগান, পীরগঞ্জ ফানসিটি শিশুপার্কসহ আরো অনেক বিনোদন স্থানে। কাউসার-শিরিনের গভীর সম্পর্কের বিষয়গুলো বাড়িতে জানাজানি হলে শিরিনকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালায় স্বজনরা।
প্রেমিকা জানতে পেরে তার প্রেমিক কাউসারকে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসতে বলেন। সে মোতাবেক কাওসার ছুটি নিয়ে বাড়ি এলে শিরিন কাউসারকে বিয়ে করতে বলেন! কাওসার একপর্যায়ে শিরিনকে বিয়ে করতে নারাজ! সে কোনোমতেই বিয়েতে রাজি হচ্ছিল না।
পরে বাধ্য হয়ে শনিবার প্রেমিকা শিরিন বিয়ের দাবি নিয়ে সেনা সদস্য কাওসারের বাড়িতে দৃঢ় মনোবল ও বুকে সাহস নিয়ে অনশনে বসেন। টানা অনশন আর দেন-দরবার ও নানা জল্পনা-কল্পনার পরে মঙ্গলবার সেনা সদস্য কাউসার সাড়ে ৭ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তার প্রেমিকা শিরিনকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়।
এ কারণে দীর্ঘ অনশনের পর বিয়ে হলেও প্রেমিকার মুখে ফুটেছে দীর্ঘ শ্বাসের মিষ্টি হাসি কিন্তু প্রেমিকের মুখ গোমরা আর মন বড় বেজার।





