স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বাধার কারণে দীর্ঘ ১১ মাস ধরে নতুন বিদ্যুৎসংযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন এক গ্রাহক। অবশেষে বানিয়াচংয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেন ভুক্তভোগী।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এলাকায় যায়। তারা বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের অন্তর্গত দক্ষিণ যাত্রাপাশার আ: নুর মিয়ার ছেলে মো: আরজু মিয়ার বসত ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান করেন।

তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বানিয়াচং ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শামীম মিয়ার সাথে বিরোধ চলছিল পরিবারটির। ফলে বিগত ১১ মাস ধরে পরিবারটি বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত ছিল।

সংযোগ প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন পল্লীবিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো: আবুল হাসান, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম খোকন, প্রভাষক ইমতিয়াজ আহমেদ লিলু ও বানিয়াচং থানা পুলিশের এসআই মহসিন প্রমুখ।

বিদ্যুতের নতুন সংযোগ পেয়ে গ্রাহক আরজু মিয়া জানান, প্রশাসন, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম ও সাংবাদিকদের সহায়তায় দীর্ঘদিন পর হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছি। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

ডিজিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, নতুন সংযোগ দিতে আমরা সবসময় প্রস্তুত ছিলাম। হয়তো এলাকাবাসীর সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝামেলা থাকায় আমরা দিতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের লাইন দিতে পারায় বিষয়টা ভালো লাগছে।

অভিযানে নেতৃত্ব প্রদানকারী সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: নাজমুল হাসান জানান, জনগুরুত্বপুর্ণ বিষয়ের মধ্যে রাস্তা-বিদ্যুৎ-পানি এগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দঃখজনক হলেও সত্যি যে, বিদ্যুতের জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১১ মাস ধরে এই পরিবারটি বিদ্যুতের আলো থেকে দূরে ছিল। যা আজ সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি বিদ্যুৎ পেল। এ সময় তিনি এসব জনগুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে বাধা প্রদান না করে সবাইকে সহযোগীতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান, শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। কারো সাথে কোনো বিরোধ থাকলে বিদ্যুৎ পাবেনা কেন? এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। কিন্তু এই বিদ্যুতের আলোর ছোঁয়া থেকে স্থানীয় এক ইউপি মেম্বারের বাধাগ্রস্থের স্বীকার ছিলেন পরিবারটি। যা-ই হোক শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া হয়েছে সেটাই ভালো লাগছে।