সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মাদরাসাছাত্র ইমরানকে (১২) পিটিয়ে হত্যা করেছে আপন চাচা ও তার ছেলেরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দিরাই থানা পুলিশকে লাশ দেখিয়ে বাড়িতে নেয়া হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যালে ইমরান মারা যায়।
নিহত ইমরান হোসেন উপজেলার টংগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
স্থানীয় সেূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার টংগর গ্রামের মরহুম দিয়ানত উদ্দিনের ছেলে আবুল খায়ের ও আবুল কাশেমের মাঝে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে ঝগড়াঝাটি হয়। এ সময় আবুল খায়ের ও তার ছেলেদের বেধরক মারপিটের কারণে আবুল কাশেম ও তার ছেলে ইমরান (১২), মেয়ে রিনা বেগম (২১) গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতরা দিরাই উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে আশেঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকেই সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় পরদিন বুধবার বিকেল চারটায় ইমরান মারা যায়।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনি রানী তালুকদার জানান, বেধরক মারপিটে জখমী ইমরানের মাথার খুলি ভাঙ্গাসহ তিনজনই প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত ছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত ইমরানের বাবা আবুল কাশেম জানান, আমি দিরাই বাজারের একটি হোটেলে কাজ করি। বসতঘরের সীমানা নিয়ে আমার ভাইয়ের সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। মঙ্গলবার আমি বাড়িতে গেলে আমার ভাই, ভাতিজা, ভাগনা মিলে আমার বসতঘরে এসে লাঠিসোটা নিয়ে সবাইকে মারধর শুরু করে। এ সময় তাদের মারপিটে আমি আমার মেয়ে ও ছেলে আহত। আমরা দিরাই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে তারা সিলেট ওসমানীতে প্রেরণ করে। আমি সিলেট যাওয়ার আগে দিরাই থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে আগে চিকিৎসা করানোর কথা বলে পুলিশ।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মুক্তাদির হোসেন বলেন টংগর গ্রামের দুই সহোদরদের মাঝে বসতঘরের সীমানা নিয়ে মারামারিতে একটি ছেলে চিকিৎসারত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা করছে। এখনো মামলা হয়নি।
নিহত ইমরানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় ইমরান মারা যায়। ওসমানী মেডিক্যালে ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিরাই থানা পুলিশকে লাশ দেখিয়ে বাড়িতে নেয়া হয়। রাত ৮টায় জানাজা শেষে মাদরাসাছাত্র ইমরান হোসাইনকে গ্রামের পঞ্চায়েতি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।





