মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট লঘুচাপে দিনাজপুরে টানা বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাসহ বালিয়াডাঙ্গী, রাণীসংকৈল, হরিপুর ও পীরগঞ্জসহ পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট ও নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। চারিদিকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এমনকি নিচু এলাকার বাসাবাড়ির ভেতরেও ঢুকে পড়েছে পানি।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলার পাঁচটি উপজেলার অধিকাংশ জমিতে রোপা আমনের ক্ষেতও ডুবে গেছে। এদিকে জেলার প্রধান তিনটি নদী টাঙ্গন, তীরনই ও নাগর নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।
টানা বর্ষণের কারণে অন্য দিনের তুলনায় রোববারও অনেক কম যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হননি।
ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া সহকারী কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ মিলিমিটার, শনিবার ২৩ মিলিমিটার ও রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এটি একটি লঘুচাপ। আগামী বুধবার পর্যন্ত এরকম বৃষ্টিপাত চলমান থাকতে পারে। তবে এখনপর্যন্ত বন্যার পূর্বাভাস দেয়া হয়নি।
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। জেলা শহরের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীর বিপৎসীমা ৩৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। যেখানে বর্তমান এ নদীর পানি সমতল ৩১ দশমিক ৯৬ সেন্টিমিটার।
তীরনই নদীর বিপৎসীমা ৩৯ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। এ নদীর পানি সমতল বর্তমানে ৩৭ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। নাগর নদীর বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। বর্তমানে সেখানে ৪০ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে। এসব নদীর পানি যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।





